মাত্র ৫ মিনিটের বাড়তি ঘুমেই বাড়বে ১ বছর আয়ু! বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে এল চমকপ্রদ তথ্য
গবেষকরা জানিয়েছেন, দিনে সাত থেকে আট ঘণ্টার ঘুম, ৪০ মিনিটের বেশি শরীরচর্চা এবং পুষ্টিকর খাবার মানুষের আয়ু অন্তত ৯ বছর বাড়িয়ে দিতে সক্ষম।
Truth of Bengal: দীর্ঘায়ু পাওয়ার চাবিকাঠি কি কেবল কঠোর পরিশ্রম বা খাদ্যাভ্যাসে বড় কোনো বদল? সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে অত্যন্ত চমকপ্রদ তথ্য। বুধবার প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রতিদিন মাত্র অতিরিক্ত ৫ মিনিটের ঘুম এবং মাত্র ২ মিনিটের মাঝারি শরীরচর্চা, যেমন দ্রুত হাঁটা বা সিঁড়ি দিয়ে ওঠা, আপনার আয়ু এক বছর বাড়িয়ে দিতে পারে। এমনকি যাঁদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত অনিয়মিত, তাঁরা যদি প্রতিদিন অর্ধেক বাটি অতিরিক্ত সবজি খাওয়ার অভ্যাস করেন, তবে তাঁদের আয়ুও এক বছর বাড়তে পারে। ল্যানসেট জার্নালের ই-ক্লিনিক্যাল মেডিসিন বিভাগে প্রকাশিত এই গবেষণাটি প্রায় ৬০ হাজার মানুষের ওপর টানা ৮ বছর ধরে চালানো হয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, দিনে সাত থেকে আট ঘণ্টার ঘুম, ৪০ মিনিটের বেশি শরীরচর্চা এবং পুষ্টিকর খাবার মানুষের আয়ু অন্তত ৯ বছর বাড়িয়ে দিতে সক্ষম। ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, চিলি এবং ব্রাজিলের একদল আন্তর্জাতিক গবেষক এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁদের মতে, ঘুম, ব্যায়াম এবং ডায়েট— এই তিনটি বিষয় যখন একসঙ্গে কাজ করে, তখন এর সুফল একক অভ্যাসের চেয়ে অনেক বেশি হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, একজন মানুষের যদি ঘুমের অভ্যাস খুব খারাপ হয়, তবে কেবল ঘুমের মাধ্যমে এক বছর আয়ু বাড়াতে তাঁকে প্রতিদিন অতিরিক্ত ২৫ মিনিট ঘুমাতে হবে। কিন্তু তিনি যদি ঘুমের সাথে সামান্য পরিমাণ শরীরচর্চা এবং ডায়েটে বদল আনেন, তবে মাত্র ৫ মিনিটের বাড়তি ঘুমই সেই কাজ করে দেবে। অর্থাৎ ছোট ছোট ইতিবাচক পরিবর্তনগুলো একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে শরীরকে অনেক বেশি সতেজ রাখে। অন্য একটি পৃথক গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনন্দিন রুটিনে মাত্র ৫ মিনিট বাড়তি হাঁটার অভ্যাস যুক্ত করলে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এমনকি যাঁরা শারীরিকভাবে খুব একটা সক্রিয় নন, তাঁদের ক্ষেত্রেও এই অভ্যাস মৃত্যুর ঝুঁকি ৬ শতাংশ কমাতে সাহায্য করে। ১৩৫,০০০ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা এই গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে একটানা বসে থাকার সময় থেকে মাত্র ৩০ মিনিট কমাতে পারলে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৭ শতাংশ কমে যায়।
নরওয়েজিয়ান স্কুল অফ স্পোর্ট সায়েন্সেসের অধ্যাপক উলফ একেলুন্ড জানিয়েছেন, এই তথ্যগুলো প্রমাণ করে যে শরীরচর্চার ক্ষেত্রে সামান্যতম ইতিবাচক পরিবর্তনও জনস্বাস্থ্যের ওপর কতটা গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই তথ্যগুলো ব্যক্তিগত পরামর্শ হিসেবে না দেখে সামগ্রিক জনসংখ্যার স্বাস্থ্য সুবিধার একটি চিত্র হিসেবে দেখা উচিত। সুস্থ থাকতে হলে বড় কোনো পরিবর্তনের অপেক্ষা না করে ছোট ছোট অভ্যাস থেকেই শুরু করা বুদ্ধিমানের কাজ।






