মদ ও কোল্ড ড্রিঙ্কসে চড়া কর বসালেই বাড়বে গড় আয়ু? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্টে চাঞ্চল্য
ডাব্লুএইচও-র মতে, চিনিযুক্ত পানীয় এবং মদ বিক্রি করে বড় বড় কোম্পানিগুলো বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার মুনাফা করলেও সরকারগুলো করের মাধ্যমে তার খুব সামান্য অংশই হাতে পায়।
Truth of Bengal: চিনিযুক্ত পানীয় এবং অ্যালকোহলের ক্রমবর্ধমান সস্তায় সহজলভ্যতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডাব্লুএইচও। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে যে, এই পণ্যগুলোর ওপর করের হার তুলনামূলকভাবে কম থাকায় বিশ্বজুড়ে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং ক্যানসারের মতো মরণব্যাধি বাড়ছে। জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় এবং স্বাস্থ্য খাতে তহবিলের যোগান বাড়াতে বিশ্বের দেশগুলোকে অবিলম্বে এই ক্ষতিকর পণ্যগুলোর ওপর কর বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে তারা।
ডাব্লুএইচও-র মতে, চিনিযুক্ত পানীয় এবং মদ বিক্রি করে বড় বড় কোম্পানিগুলো বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার মুনাফা করলেও সরকারগুলো করের মাধ্যমে তার খুব সামান্য অংশই হাতে পায়। এর ফলে জনস্বাস্থ্যের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির বোঝা এবং অর্থনৈতিক ব্যয় শেষ পর্যন্ত সমাজকেই বহন করতে হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস এক বিবৃতিতে বলেন যে, তামাক, অ্যালকোহল এবং মিষ্টি পানীয়ের ওপর কর বৃদ্ধি করলে ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো যেমন কমানো সম্ভব, তেমনি সেই অর্থ দিয়ে অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতিও করা সম্ভব। বিশেষ করে অনুন্নত দেশগুলোর ক্ষেত্রে এই ধরনের কর ব্যবস্থা স্বাস্থ্য খাতে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিশ্বজুড়ে অন্তত ১১৬টি দেশে সোডার মতো মিষ্টি পানীয়ের ওপর কর থাকলেও ফলের রস, মিষ্টি মেশানো দুধ কিংবা রেডি-টু-ড্রিঙ্ক কফি ও চায়ের মতো অনেক পানীয় এখনও করের আওতার বাইরে রয়ে গিয়েছে। একইভাবে অ্যালকোহলের ক্ষেত্রেও উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অন্তত ৫৬টি দেশে বিয়ার আরও সস্তা হয়েছে। এমনকি ইউরোপের অন্তত ২৫টি দেশে ওয়াইনের ওপর কোনো আবগারি শুল্ক নেই। ডাব্লুএইচও-র মতে, এই সহজলভ্যতা সহিংসতা, আঘাত এবং মারণব্যাধিকে উসকে দিচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বর্তমানে ২০৩৫ সালের মধ্যে তামাক, অ্যালকোহল এবং মিষ্টি পানীয়ের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। যদিও গেব্রেয়াসুস সতর্ক করে বলেছেন যে, রাজনৈতিকভাবে এই ধরনের কর বাড়ানো অনেক সময় অজনপ্রিয় হতে পারে এবং প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বাধার সম্মুখীন হতে হতে পারে। তবে ব্রিটেন, ফিলিপাইন এবং লিথুয়ানিয়ার মতো দেশগুলো সঠিক পরিকল্পনা করে এই কর ব্যবস্থা কার্যকর করে সফল হয়েছে। জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে শিল্পের মুনাফার চেয়ে সমাজের সামগ্রিক সুস্থতাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি বলে মনে করছে রাষ্ট্রপুঞ্জের এই স্বাস্থ্য সংস্থা।






