কন্যাহারা মা-বাবার ‘সেন্টিমেন্ট’ নিয়ে রাজনীতি! বঙ্গ-বিজেপির চরম রাজনৈতিক দৈন্যতা
এত মানুষ জমায়েত হওয়ার পরও কোনও বিশৃঙ্খলা ঘটেনি।
ইন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় (বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক): কলকাতার বুকে ২১-শে জুলাই তৃণমূল কংগ্রেসের সুশৃঙ্খল মহা সমাবেশ দেখেছিল সারা দেশ। যেখানে তৃণমূলের লক্ষ লক্ষ কর্মী সঙ্গবদ্ধ ভাবে হাজির হয়েছিলেন সভাস্থলে। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী দিনে লড়াই-এর ক্ষেত্রে কী বার্তা দেন তা শুনতে মহানগরীর বুকে ভিড় জমিয়েছিলেন তারা। এত মানুষ জমায়েত হওয়ার পরও কোনও বিশৃঙ্খলা ঘটেনি (BJP Politics)।
পুলিশের ভূমিকাও ছিল তেমনই, দক্ষতার সঙ্গেই তাঁরা নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন, যেখানে তৃনমূলের স্বেচ্ছাসেবকরা সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু আর জি কর কাণ্ডের বর্ষ পূর্তিতে নবান্ন অভিযানের নামে গত ৯ আগস্ট শহর দেখল এক চরম বিশৃংখলার ছবি। গুরুতর আহত হলেন একাধিক পুলিশ কর্মী। পুলিশকে রাস্তায় ফেলে পেটাল আন্দোলনকারীরা। পুলিশের রক্তে লাল হল কলকাতার রাজপথ। রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এটা কি করলেন? ছিঃ, ভাবতেও অবাক লাগে রাজ্যের বিরোধী দলনেতার এই ভূমিকা দেখে। লজ্জা লাগে না বিরোধী দলনেতার? সারা দেশ দেখেছে তাঁর নোংরামি।
সিপিকে কদর্য অষায় গালিগালাজ করলেন, পুলিশকে রাস্তায় ফেলে পেটানো হল, পুলিশের মাথায় লাথি মারা হল, ইট দিয়ে পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙা হল। সাধারণত এমন আচরণ সমাজবিরোধীরাই করে থাকে। আপনারা নাকি ক্ষমতায় আসতে চান? বাংলার মানুষ আপনাদের মতো নোংরা মানসিকতার মানুষদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনবেন? শুভেন্দু অধিকারী (BJP Politics) আপনি এইভাবে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসবেন? আপনার মধ্যে সংযম, সহশীলতা, বাংলার সংস্কৃতি, রুচিবোধ আছে? ছিঃ অধিকারী সাহেব, ছিঃ! রাজনৈতি আন্দোলন করার অধিকার সকলেরই আছে, এটা দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার। তাবলে গুণ্ডামি নয়।
তাছাড়া আপনি একজন শুধু বিজেপি দলের নেতা নন, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। রাজ্য ও সরকারের প্রতি আপনারও অনেক দায়বদ্ধতা রয়েছে। আপনি অবৈধ আন্দোলন করতে পারেন না। মানুষকে উসকে দিয়ে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারেন না, এটা সংবিধানকে পদদলিত করা ছাড়াট কিছু নয়। প্রতিনিয়ত এটাই আপনারা করছেন। কিসের ভিত্তিতে এই আন্দোলন? সেটাই তো মানুষ বুঝতে পারল না। মানুষ শুধু দেখলো গুণ্ডামি। সন্তানহারা বুকে পাথর চেপে রাখা অসহায় এক বাবা ও মাকে ঢাল করে এই এহেন নোংরা রাজনীতি করতে পারলেন? তাছাড়া নির্যাতিতার নামে আন্দোলন করতে গিয়ে একটিবারও তো তার বিচার চেয়ে আপনাদের শব্দও উচ্চারন করলেন না? করবেন কি করে? সেই মুখ আপনার আছে?
আন্দোলন করতে গেলে তো সিবিআই-এর বিরুদ্ধে করতে হয়। আর সেটা তো কেন্দ্রীয় সরকার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর তত্ত্বাবধানে চলে। কেন সিবিআই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না তা নিয়ে তো কেন্দ্রের সরকারের কাছে তদ্বির করতে পারেন। কেন্দ্রকে দিয়ে সিবিআইকে চাপে ফেলে তদন্ত শেষ করাতে পারেন। মানুষকে বোকা বানাচ্ছেন? অসহায় নির্যাতিতার বাবা-মায়ের সেন্টিমেন্ট নিয়ে খেলা করছেন? ছিঃ এটা কি মনুষ্যত্বের কাজ? নাকি মনুষ্যত্বকে বিক্রি করে দিয়েছেন? আর জি কর নিয়ে বামেরা আন্দোল করেছিল, ওই সময় সেই আন্দোলন হাইজ্যাক করতে চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু পারেন নি। এবছর সেটা করতে কসুর করেননি।
আপনার ও বিজেপির (BJP Politics) জঘন্য চেহারাটা বেরিয়ে এল। এই মামলায় রাজ্য পুলিশ এগিয়ে ছিল। ওই পাশবিক ঘটনায় দোষী সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করেছিল কলকাতা পুলিশ। তদন্তভার সিবিআই গ্রহণ করার পর কলকাতা পুলিশ অপরাধীকে সিবিআই-এর হাতে তুলে দেয়। এই মামলায় একমাত্র অপরাধী হিসেবে সঞ্জয় রায় এর নাম ছাড়া দ্বিতীয় কোন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে পারেনি সিবিআই। সাজা হয় সঞ্জয় রায়ের।
আপনারা তাও মানছেন না। মোটকথা আপনারা আইনকে মানছেন না, সংবিধানকে মানেন না, বিচার ব্যবস্থাকেও মানেন না। অথচ ক্ষমতায় আপনারা। অদ্ভুত, মনের মত বিচার হলে মানবেন, নাহলে নয়? আপনাদের লক্ষ্য একটাই, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অপদস্থ করতে হবে। বিরোধীদের দাবি মেনে ঘটনা তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের কাঁধে। তারপরেও আপনাদের অভিযোগ নবান্নের দিকে। কেন সিজিও কমপ্লেক্সের সামনে আন্দোলন নয়। নির্যাতিতার বাবা ও মা বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন সিবিআই সম্পর্কে। কি বলেছিলেন তিনি? সিবিআই আর কিছুই করবেনা, তাঁর সিবিআই-এর প্রতি আর কোনও আস্থা নেই।
তাহলে দাঁড়াল টা কী? অপেক্ষা করুন, এর যোগ্য জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত বাংলার মানুষ। আপনারা তো নারী ধর্ষণ, নারী সম্মান -এর কথা বলে থাকেন, তাহলে রাজ্য বিধানসভায় পাশ হওয়া অপরাজিতা বিল দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রপতির দফতর থেকে ফেরত এল কেন? তাতে তো ধর্ষণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাজা ছিল ফাঁসি। কাদের আড়াল করতে এর অনুমোদন মিলল না বলতে পারেন? আপনাদের এই দ্বিচারিতার জন্যই বিলকিস বানোর হত্যাকারীরা প্যারোলে মুক্তি পায়। তাঁদের ফুলের মালা দিয়ে করণ করা হয়।
উত্তরপ্রদেশের হাথরসের দলিতকন্যা ধর্ষণে বিচার হয় না। রাম-রহিম বাবা ধর্ষনের মত জঘন্য কাজ করেও বহাল তবিয়তে থাকে। বিজেপি নেতা তথা ত্রিপুরার সাংসদের বিরুদ্ধে মহিলাঘটিত নোংরামির অভিযোগ থাকলেও তার তদন্ত হয়না। উল্টে বাংলায় কোনও ধর্ষনের ঘটনায় তদন্তের জন্য ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটিতে তাঁর নাম থাকে।
শুধুমাত্র বিজেপি (BJP Politics) করার সুবাদে কার্তিক মহারাজের বিচারে বাধা আসে। আবার বিজেপিশাসিত রাজ্য বিহার, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাটে একের পর এক ধর্ষণ, গণধর্ষণে নীরব থাকেন বিজেপি নেতৃত্ব। মনিপুর নিয়ে চুপ থাকেন নেতারা। ২ বছরে যেখানে একবারও পা দিলেন না প্রধানন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সত্য সেলুকাস, কি বিচিত্র এই দেশ, কি বিচিত্র এই বিজেপি! শুভেন্দুবাবু ভাবুন, কাঁচের ঘরে বসে অন্য কাঁচের ঘরে ঢিল মারবেন না।






