রাজ্যের খবর

বারুইপুরে এনকাউন্টারের রাতে ঠিক কী ঘটেছিল? পুলিশ সুপারের রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের

বারুইপুর ধ*র্ষণ-খুন কাণ্ডে অভিযুক্তের মৃত্যু ঘিরে তোলপাড়! সিআইডি তদন্তের মাঝেই হাইকোর্টের অ্যাকশন!

Truth of Bengal: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নৃশংস ধর্ষণ ও খুন কাণ্ডে ধৃত মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনায় এবার রাজ্য পুলিশকে জোর ধাক্কা দিল কলকাতা হাইকোর্ট। এনকাউন্টারের ওই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে বারুইপুরের জেলা পুলিশ সুপার (SP)-এর রিপোর্ট তলব করল আদালত। সেই সঙ্গে এই ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত কী কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা-ও হলফনামা আকারে স্পষ্ট জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই কড়া নির্দেশ দেয়। মামলার পরবর্তী শুনানি রাখা হয়েছে আগামী ১৭ আগস্ট।

বারুইপুর এনকাউন্টারের নিরপেক্ষ তদন্ত ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন শিলাদিত্য রক্ষিত। আবেদনকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতে সওয়াল করে বিস্ফোরক দাবি জানান। তিনি বলেন, “ধর্ষণ-খুন কাণ্ডে ধৃত প্রভাস মণ্ডলকে রাতের অন্ধকারে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। সেখানে কেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়নি? পুলিশের নিরাপত্তা যদি নিশ্ছিদ্র হত, তবে অভিযুক্তের পক্ষে রিভলবার ছিনিয়ে নেওয়া অসম্ভব ছিল। অসমের পুরনো এনকাউন্টারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি পুলিশের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ‘মনগড়া’ বলে তোপ দাগেন।”

পাল্টা যুক্তিতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (AG) রাজদীপ মজুমদার আদালতকে জানান, গত ৭ জুলাই রাতে তদন্তের তাগিদে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সুযোগে অভিযুক্ত আচমকাই এক পুলিশ আধিকারিকের রিভলবার ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালাতে চালাতে পালানোর চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। এজি আরও জানান, পুলিশ ইতিমধ্যেই স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে এবং বর্তমানে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালাচ্ছে সিআইডি (CID)।

উভয়পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, এই সংবেদনশীল বিষয়ের সত্যতা বিচারে রাজ্য প্রশাসনের বিস্তারিত রিপোর্টের অত্যন্ত প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, প্রথম থেকেই জেলা পুলিশের দাবি ছিল, পুনর্নির্মাণের সময় সিট (SIT)-এর সদস্য রনি সরকারের রিভলবার ছিনিয়ে নিয়ে এক রাউন্ড গুলি চালিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিল প্রভাস। তখন সিটের অপর সদস্য অর্ঘ্য মণ্ডল পাল্টা গুলি চালান। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে প্রভাসের শরীরে দু’টি গুলির চিহ্ন মিলেছে। তবে এবার হাইকোর্টের এই কড়া পদক্ষেপে বারুইপুর পুলিশ প্রশাসনের ওপর চাপ অনেকটাই বৃদ্ধি পেল।

Related Articles