সম্পাদকীয়

নববর্ষ বনাম নিউ ইয়ার

সত্যি কথা বলতে কী, ১লা বৈশাখ কখনই স্বভাবে হাই-ফাই নয়

সুপ্রভাত লাহিড়ী: নববর্ষ না নিউ ইয়ার? কোন দিনটি আমাদের বেশি কাছের? এই ব্যাপারটা প্রতি নববর্ষেই মনে উঁকি দিয়ে দিয়ে যায়। যেমন ১৪৩২-এ মনে খচখচ করেছে, আবার ১৪৩৩-এ এসেও সেই একই প্রশ্ন মনে হানা দিয়েছে। এ নিয়ে আমি বহুজনে প্রশ্ন রেখেছি, উত্তর এসেছে বিক্ষিপ্তভাবে, হৃদয় কাড়েনি। আসলে নিউ ইয়ার ওল্ড ইয়ারের বড়দিনের আগে থেকেই শুরু হয়ে যায়। বড়দিনের অধিকাংশ উইশ এবং কার্ড দুই অনুষ্ঠানকে জড়িয়েই দেওয়া-নেওয়া হয়। চলে প্রতিযোগিতা, কে কাকে আগে উইশ করবে এবং কার্ড পাঠাবে! পুরো ডিসেম্বর মাস জুড়েই যেমন কার্ড কেনার হুজুগ তেমনই সারা জানুয়ারি মাসটাই চলে যায় সেই কার্ড আদান-প্রদানে।

নিউ ইয়ারে রাত বারোটায় পার্কস্ট্রিট তো আছেই, সেই সঙ্গে নানান স্বাদের, আকৃতির কেক। আসলে শীত কালের জন্যেই ফার্স্ট জানুয়ারির অ্যাডভান্টেজ বেসি পায়। হই-হুল্লোড় করেও দম ফুরোয় না, ক্লান্তিও আসে না। এই দিনটি পৃথিবীর সব লোক মানে বছর শুরুর দিন হিসাবে, তাই এর প্রচারটাও বেশি। আমরা নিজেরাও তো ইংরেজি মাসটাকেই মেনে চলি (বিবাহ ও অন্যান্য শুভ অনুষ্ঠানের দিন-ক্ষণ ছাড়া)। তাই তার এত প্রচার, দাপট এবং গ্রহণযোগ্যতা। কিন্তু পয়লা বৈশাখের নিদাঘ এতে বেশ কিছুটা বাদ সাধে… ‘দারুণ অগ্নি বাণে রে…’। খাওয়ার আয়োজন থাকে প্রচুর-হরেক রকম, লোভনীয় এবং পাতপেড়ে, সব গরমের বাধা উপেক্ষা করে। নববর্ষের পার্ক স্ট্রিট হচ্ছে-গঙ্গার ঘাট-ভোর রাতে গঙ্গাস্নান তারপর কালীঘাটে মায়ের বাড়ি-খেরো খাতায় ছয়লাপ, দোকানে দোকানে বাঁধা কলাগাছ, সিঁদুরে চর্চিত সিদ্ধিদাতা গণেশ, জ্বলন্ত ধুপকাঠি, হালখাতা-মিষ্টির প্যাকেট-গ্লাসে করে ঠান্ডা পানীয়/শরবত। বাংলা নতুন বছরের ক্যালেন্ডার…। নববর্ষে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি-নতুন জামাকাপড়….উফ্ তার কি গন্ধ!

সত্যি কথা বলতে কী, ১লা বৈশাখ কখনই স্বভাবে হাই-ফাই নয়। একটু শান্ত, কোমল তার হাবভাব। ঠাঁট-বাঁট প্রচণ্ড কিন্তু প্রদর্শনমূলক নয়। একলা বৈশাখ যেন সত্যি সত্যিই আভিজাত্যে ভরা, বড়ই একলা…। সবার শুভ আমার শুভ, আমার শুভ সবার শুভ। শুভ নববর্ষ সর্বশুভ হোক। ১৪৩৩-এর স্লোগান হোক ‘সর্বাশুভ বিনাশয়’।

Related Articles