সরকারি ভেড়ি থেকে দেদার মাছ লুট কড়া পদক্ষেপ উত্তরপাড়ার বিধায়কের
হিন্দুস্তান মোটর কারখানার সংলগ্ন বিস্তীর্ণ ফাঁকা জমিতে থাকা একাধিক ভেড়িকে ঘিরেই দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ উঠছিল।
Truth of Bengal: রাকেশ চক্রবর্তী, হুগলি: উত্তরপাড়া বিধানসভা এলাকায় সরকারি ভেড়ি থেকে দীর্ঘদিন ধরে মাছ লুটের অভিযোগে এবার কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হল। উত্তরপাড়ার বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তীর উদ্যোগে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের পর সরকারি নিয়ম মেনে অকশনের মাধ্যমে মাছ ধরার কাজ শুরু হয়েছে। প্রথম দিন যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হয়।
হিন্দুস্তান মোটর কারখানার সংলগ্ন বিস্তীর্ণ ফাঁকা জমিতে থাকা একাধিক ভেড়িকে ঘিরেই দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ উঠছিল। স্থানীয় সূত্রে দাবি, কারখানা বন্ধ হওয়ার পর জমিটি রাজ্য সরকারের অধিগ্রহণে আসে। এরপর থেকেই ওই জলাজমিতে মাছ চাষের নামে কিছু দুষ্কৃতী মৎস্যচাষীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা আদায় করত। অভিযোগ, এই অর্থের কোনও অংশই সরকারি কোষাগারে জমা পড়ত না।
বিষয়টি নজরে আসার পর উত্তরপাড়ার বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী জেলা প্রশাসন, মহকুমা প্রশাসন, মৎস্য দপ্তর এবং ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও লিখিত অভিযোগ জানান তিনি। এরপরই প্রশাসনের তরফে বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ শুরু হয়।
শ্রীরামপুরের মহকুমা শাসকের নির্দেশে মৎস্য দপ্তর সরকারি ভেড়ির মাছ বিক্রির জন্য অকশনের ব্যবস্থা করে। অকশনে যিনি সর্বোচ্চ দর দিয়েছেন, তাঁকেই মাছ ধরার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে মাছ ধরার সময় ভেড়ি মাফিয়াদের হামলার আশঙ্কা থাকায় বিধায়ক নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন মৎস্য দপ্তর এবং ভূমি রাজস্ব দপ্তরের আধিকারিকরা। পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই নির্বিঘ্নে মাছ ধরার কাজ সম্পন্ন হয়।
বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ভেড়িকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকার তোলাবাজির অভিযোগ ছিল। সরকারি সম্পত্তি থেকে কোনও রাজস্ব এতদিন সরকারের কোষাগারে জমা পড়েনি। এখন নিয়ম মেনে অকশনের মাধ্যমে সেই আয় সরকারি ব্যবস্থার মধ্যে আনা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আগামী দিনে এই এলাকার জলাশয়গুলিকেও পর্যায়ক্রমে অকশনের আওতায় আনা হবে। এর ফলে রাজ্য সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে এবং সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপে দীর্ঘদিনের অনিয়ম বন্ধ হবে বলে আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে এখনও পর্যন্ত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।






