“ওরা ফিরলে ২৪ ঘণ্টায় ইস্তফা দেব!”, তৃণমূলের বিদ্রোহীদের কড়া চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
তৃণমূলে তুলকালাম! কল্যাণ-অনুব্রতদের হুঁশিয়ারির জবাবে প্রকাশ্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে এ কী বললেন অভিষেক?
Truth of Bengal: ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের ঐতিহাসিক ভরাডুবির পর থেকেই দলের অন্দরে ও বাইরে লাগাতার ‘বিদ্রোহী’দের প্রধান নিশানায় পরিণত হয়েছেন তিনি। এমনকি খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের গুটিকয়েক বিশ্বস্ত সেনার মাঝেও তীব্র সমালোচিত হতে হয়েছে তাঁকে। দলের প্রবীণ নেতারা খোলাখুলি বলেই দিয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলে থাকলে তাঁরা আর থাকবেন না। এই নজিরবিহীন ও দমবন্ধ করা পরিস্থিতিতে এবার আর চুপ করে থাকলেন না ‘কালীঘাট’ শিবিরের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার নিজের কার্যালয়ে সরকারি বুলডোজার চলার পর, বিকেলে কালীঘাটের বাড়ির সামনে থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিদ্রোহী শিবিরকে এক প্রকার ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তিনি। সাফ জানালেন, ‘‘যদি ওদের (দলবদলুদের) কেউ কোনওদিন দলে ফিরে আসে, আমি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিজের পদ থেকে ইস্তফা দেব। মিলিয়ে নিন, একজনও আর ফিরে আসবে না।”
আইপ্যাক ও আসন বিক্রির গুরুতর অভিযোগ
উল্লেখ্য, ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকেই দলের একাংশের অভিযোগ ছিল যে, ভোট কৌশলী সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC)-এর কথা শুনে বেশ কয়েকটি লোকসভা আসন কার্যত ‘বিক্রি’ করেছেন অভিষেক। যার ফলে সেই সব আসনে গোহারা হেরেছে ঘাসফুল শিবির। এর পাশাপাশি আরও অভিযোগ ছিল, দলের হারের পর নিচুতলার কর্মীদের ওপর লাগাতার রাজনৈতিক হামলা হলেও সম্পূর্ণ ‘নিষ্ক্রিয়’ ভূমিকা পালন করেছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। এই ক্ষোভ ও মমতার অতিরিক্ত ‘ভাইপো-স্নেহ’ মেনে নিতে না পেরেই সাংসদদের একটা বড় অংশ দিল্লিতে গিয়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন এবং পরিষদীয় দলের একটা বড় অংশ ভেঙে তৈরি হয়েছে ‘ঋতব্রত’ শিবির।
“পার্টি অফিস মন্দিরের মতো, শেষ দেখে ছাড়ব”
শনিবার সকালে আমতলায় তাঁর পার্টি অফিসে প্রশাসনের বুলডোজার চলার ঘটনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন অভিষেক। মোদি সরকার ও বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘‘পার্টি অফিস আমাদের কাছে মন্দিরের মতো। সমস্ত আইনি নিয়ম মেনে জমি কিনে এই অফিস তৈরি হয়েছিল। আমাদের কাছে সব নথিপত্র আছে। এই বেআইনি ভাঙচুরের বিরুদ্ধে সমস্ত প্রমাণ সবার আগে হাইকোর্টে জমা দেব। প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে যাব এটা নিয়ে। আমি এর শেষ দেখেই ছাড়ব।”
কল্যাণ ও পুরনো নেতাদের সরাসরি পাল্টা জবাব
একই সঙ্গে দলে চলা মুষলপর্ব নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করে দলত্যাগীদের উদ্দেশে অভিষেক বলেন, “এতদিনে ওদের সবার জনতার কথা মনে পড়ল? এই ফলাফলের জন্য এখন দলকে দায়ী করছেন, তার আসল কারণটা কী?” প্রসঙ্গত, এদিন সকালেই বাঁকুড়ার মঞ্চ থেকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও মমতাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, দলবদলুদের একজনকেও দলে ফেরানো হলে তিনি দল ছাড়বেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা অনুব্রত মণ্ডলের মতো দলের পুরনো হেভিওয়েট নেতারা যে সরাসরি ‘অভিষেক বনাম পুরনো দল’ সমীকরণ তৈরি করতে চাইছেন, এদিন সেই বুদ্বুদকেই কার্যত সপাটে পাল্টা আক্রমণ করে ভেস্তে দিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।






