দেশ

“সব কিছুর দায় আমার!” যন্তরমন্তরে পেলেট বিতর্কের মাঝেই জওয়ানদের পাশে দাঁড়িয়ে বড় বার্তা সিআরপিএফ ডিজির

একজন আদর্শ দলনেতার মতোই তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কর্তব্যরত অবস্থায় বাহিনীর জওয়ানরা সদুদ্দেশ্যে যে সমস্ত পদক্ষেপ নিয়েছেন, তার সমস্ত দায়ভার ডিজি হিসেবে তিনি নিজের কাঁধেই নিচ্ছেন।

Truth of Bengal: ছাত্র বিক্ষোভে ছররা বা পেলেট বন্দুক ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের উপর এমন কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ ঠিক কে দিয়েছিলেন, তা নিয়ে বিরোধীদের হাজারো প্রশ্নের মুখমুখি কেন্দ্রীয় বাহিনী ও দিল্লি পুলিশ। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির আবহেই সিআরপিএফ-এর ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজি) জ্ঞানেন্দ্রপ্রতাপ সিং এক তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন। একজন আদর্শ দলনেতার মতোই তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কর্তব্যরত অবস্থায় বাহিনীর জওয়ানরা সদুদ্দেশ্যে যে সমস্ত পদক্ষেপ নিয়েছেন, তার সমস্ত দায়ভার ডিজি হিসেবে তিনি নিজের কাঁধেই নিচ্ছেন। পাশাপাশি, কোনওরকম দ্বিধাদ্বন্দ্ব না রেখে জওয়ানদের নির্ভীকভাবে দায়িত্ব পালন করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সিআরপিএফ-এর একটি সাম্প্রতিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জি পি সিং বলেন, “কর্তব্য পালনের সময় সদুদ্দেশ্যে আপনারা যা যা পদক্ষেপ নিয়েছেন, তার সবকিছুর দায় আমি নিচ্ছি। আপনারা নির্ভয়ে নিজেদের কাজ করে যান। যদি এই ঘটনার জন্য কাউকে জবাবদিহি করতে হয় বা দায় নিতে হয়, তবে সিআরপিএফ প্রধান হিসেবে সেই দায় আমিই নেব।” বস্তুত, গত ২০ জুলাই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সংসদ ভবন অভিযানকে কেন্দ্র করে যন্তরমন্তরে ব্যাপক পুলিশি ধরপাকড় ও বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠে। এমনকি, অন্তত এক ডজন র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র‍্যাফ) সদস্যের হাতে ছররা বন্দুক দেখা গিয়েছিল এবং সেই গুলিতে একজন সাংবাদিকসহ মোট পাঁচজন জখম হন বলে একাধিক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হয়। যেহেতু র‍্যাফ মূলত দিল্লি পুলিশ ও সিআরপিএফ-এর অধীনে কাজ করে, তাই নির্দেশ কার ছিল—তা নিয়ে জোর বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

অন্যদিক, এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে ময়দানে নেমেছে বিরোধী শিবির। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। লোকসভায় সওয়াল করে রাহুল দাবি করেন, যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে গুলি চলে থাকে, তবে তার দায় নিয়ে তাঁকে ইস্তফা দিতে হবে; আর যদি তাঁর অজান্তেই বাহিনী এই পদক্ষেপ করে থাকে, তবে তা প্রশাসনিক ব্যর্থতা। ঠিক এই রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও দায় ঠেলাঠেলির মাঝেই সিআরপিএফ ডিজির সরাসরি সমস্ত দায় নিজের কাঁধে নেওয়ার বক্তব্যকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Related Articles