ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় আদালতে বড় ধাক্কা মমতা শিবিরের
অরূপ বিশ্বাসের এক চিঠিতেই লন্ডভন্ড? তৃণমূলের ৩ অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় চরম সিদ্ধান্ত দিল হাইকোর্ট!
Truth of Bengal: একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ সামনেই, আর তার আগেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় চরম অস্বস্তিতে পড়ল ‘কালীঘাট তৃণমূল’। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর মাধ্যমে ফ্রিজ করে দেওয়া দলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফের চালুর আর্জি নিয়ে হাইকোর্টের দরজায় কড়া নেড়েছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। কিন্তু সোমবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চ ওই মামলায় কোনো রকম হস্তক্ষেপ করতেই অস্বীকার করল। এর ফলে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের দেওয়া আগের নির্দেশটি আর কার্যকর হচ্ছে না, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জোড়াফুল শিবিরের জন্য এক বিরাট ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত দলের অন্দরের অভূতপূর্ব ডামাডোল থেকে। একদা কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস এইচডিএফসি (HDFC) ব্যাঙ্কের সেন্ট্রাল প্লাজা শাখায় একটি চিঠি লিখে দলের সমস্ত লেনদেন বন্ধ রাখার দাবি জানান। চিঠিতে তিনি দাবি করেন, দলে ব্যাপক বিদ্রোহ চলছে, অনেক সাংসদ দল ছেড়েছেন এবং বিধায়কদের একাংশ ক্ষুব্ধ। কর্তৃত্ব কার হাতে তা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত দলের টাকা সুরক্ষার স্বার্থেই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা উচিত বলে তিনি সওয়াল করেন। এমনকী তাঁর সই করা চেকের অপব্যবহার হতে পারে বলেও আশঙ্কা জানান তিনি।
অরূপ বিশ্বাসের এই পদক্ষেপকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘ঋতপন্থী’ ১০ জন তৃণমূল বিধায়ক বিধাননগর দক্ষিণ থানায় লিখিত আর্জি জানিয়ে দ্রুত অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের দাবি তোলেন। এরপরই এই আর্থিক টানাপোড়েনে প্রবেশ করে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ইডি। ইডির দাবি, তৃণমূলের ওই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে কোটি কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। ব্যাঙ্কের কাছে ইতিমধ্যেই ১৬৪ কোটি টাকার হিসেব চেয়ে নোটিশ পাঠিয়েছে তারা।
পূর্বে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, একজন স্পেশাল অফিসারের নজরদারিতে ‘কালীঘাট তৃণমূল’ অ্যাকাউন্ট থেকে প্রয়োজনীয় টাকা তুলতে পারবে। কিন্তু সোমবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাও সেই রায়ে হস্তক্ষেপ না করায় স্পেশাল অফিসারের মাধ্যমে টাকা তোলার রাস্তা কার্যত বন্ধ হয়ে গেল। একুশে জুলাইয়ের মতো বড় রাজনৈতিক কর্মসূচির ঠিক মুখে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের এই অচলাবস্থা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে গভীর আর্থিক ও রাজনৈতিক সংকটে ফেলে দিল।






