Truth Of Bengal: স্বাধীনতারও বহু আগে ১৯৪২ সালে শুরু হয় এই পুজোর উদ্যোগ। কালক্রমে আজ শহর কলকাতার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী পুজো হয়ে উঠেছে হাজরা পার্ক দুর্গোৎসব (Durga Pujo 2025)। দলিত, প্রান্তিক মানুষদের পুজোয় অধিকার নিশ্চিত করতে কলকাতা পুর নিগম (কেএমসি)-র মেয়র সুভাষচন্দ্র বসুর নেতৃত্বে পুর নিগমের কর্মীদের নিয়ে শুরু হয় এই উদ্যোগ। প্রথমে পদ্মপুকুরে হলেও পরে হাজরা মোড়ের যতীন দাস পার্কের মাঠে পুজো শুরু হয়। ২০১৬ সাল থেকে ‘হাজরা পার্ক দুর্গোৎসব’ নামে পুজোটি পরিচিতি পায়। ৮৩তম বছরে শিল্পী বিমান সাহার তত্ত্বাবধানে তাদের বিষয় ভাবনা হল ‘দৃষ্টিকোণ’।
আরও পড়ুনঃ Border Durga: বর্ডার দুর্গা’র গল্প, কাঁটাতারের ওপারে জমি, এপারে মন্দির!
পুজো কমিটির কর্তা তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সায়নদেব চট্টোপাধ্যায় থিম প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বলেন, ‘পুরাণ অনুযায়ী, দেবী দুর্গার গায়ের রঙ অতসী ফুলের মতো। বিভিন্ন জায়গায় অতসী ফুলের রঙ আলাদা। কোথাও তা সোনালী কোথাও আবার নীল। ফলে দেবীর মূর্তির রঙ কোথাও সোনালী কোথাও আবার নীলাভ। উপনিষদে দেবীকে বলা হয়েছে, ‘লোহিতাক্ষ্যামা শুক্তপর্ণাম’। অর্থাৎ তিনি রক্তিম, তিনি শুভ্র আবার তিনিই কৃষ্ণ। তিনি জল, তিনি অগ্নি আবার তিনিই পৃথিবী। রঙের বহুরূপই আমাদের দৃষ্টিকোণকে বদলে দেয়। পুজোয় এই বহুমাত্রিকতাকে তুলে ধরতে চাই।’ (Durga Pujo 2025)
লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/truthofbengal
সায়নদেব চট্টোপাধ্যায় আরও জানান, রঙের বহুমাত্রিকতাকে তুলে ধরা হচ্ছে মণ্ডপে। রঙ হল এক অনুভব, এক দৃষ্টিভঙ্গি। রঙ শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যকে নির্দেশ করে না। প্রতিটি অনুভূতির নিজস্ব রঙ আছে। ভালোবাসা, প্রতিবাদ, সাহস ও আশার নিজস্ব রঙ আছে। প্রতিমার গায়ে যেমন লেগে থাকে তুলির শেষ টান তেমনই জীবনের প্রতিটি অধ্যায় লেগে থাকে এক একটা রঙের গল্প। আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে রঙ, এসব রঙ শুধু চোখের আরাম নয়, আমাদের মনের আবেগ, স্মৃতি আর অভিজ্ঞতার রঙিন ছোঁয়া থাকে। শিল্পীর কাছে রঙ হল আত্মপ্রকাশের গভীর মাধ্যম, নিজস্ব ভাষ্য। প্রতিটি রঙের ব্যবহারে শিল্পীর মনের কথা, দর্শন, অনুভব ধরা পড়ে। মণ্ডপ, প্রতিমার পাশাপাশি পুরো ভাবনায় থাকছে রঙের ভাষ্য।’ (Durga Pujo 2025)







