দুর্গাপুজো ২০২৫

কল্পলোকের ‘রোশনাই’ ছড়িয়ে ‘গোড়ার কথা’ নিয়ে যেতে চান শিল্পী বিমল সামন্ত

আধুনিক সময় জীবন বড়োই দ্রুত গতির যান্ত্রিক হয়ে উঠেছে। পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। সমাজে অসহিষ্ণুতা, মানবিক অবক্ষয় ও আত্মকেন্দ্রিকতা দেখা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে আমাদের প্রয়োজন পুরোনো শেকড়ে ফিরে যাওয়া।

Truth Of Bengal: শারদোৎসবের জন্য সেজে উঠেছে বাংলা। দেশকালের গণ্ডি পেরিয়ে বাঙালি আজ গ্লোবাল সিটিজেন। থিমের অভিনবত্বই হোক কিংবা সাবেকি পুজোর আভিজাত্য ও জৌলুস, চাকচিক্য-পুজোর ষোলআনা আমেজকে ভরপুর আনন্দে চেটেপুটে নিতে প্রস্তুত আট থেকে আশি, সকলেই। প্রতি বছরই থিমের অভিনবত্বের মাধ্যমে
অসাধারণ শিল্পকৃষ্টি তুলে ধরেন শিল্পী বিমল সামন্ত। এবছরও তার ব্যতিক্রম নয়। তিনি এবছর উত্তর কলকাতার ‘আহিরীটোলা যুবকবৃন্দ’ আর দক্ষিণ কলকাতার ‘অবসর’ এর পুজোর সামগ্রিক পরিকল্পনার দায়িত্বে রয়েছেন।
শিল্পী বিমল সামন্ত বলেন, ‘অবসর সর্বজনীনের এবারের থিম, ‘গোড়ার কথা’। (Durga pujo 2025)

আরও পড়ুন: ২০ হাজারের কমে বাজেটফ্রেন্ডলি রেঞ্জে ল্যাপটপ আনল Primebook

artist-bimal-samanta-wants-to-spread-the-light-of-fantasy-world-and-take-the-message-of-the-roots
চিত্র: নিজস্ব

আজকের আধুনিক সময় জীবন বড়োই দ্রুত গতির যান্ত্রিক হয়ে উঠেছে। পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। সমাজে অসহিষ্ণুতা, মানবিক অবক্ষয় ও আত্মকেন্দ্রিকতা দেখা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে আমাদের প্রয়োজন পুরোনো শেকড়ে ফিরে যাওয়া। যেখানে ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমে মজবুত হয় পারিবারিক বন্ধন। যে সমাজ নিজের শেকড় ভুলে যায় সেই সমাজ নিজেকে হারিয়ে ফেলে। তাই সৃষ্টি ও স্রষ্টার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতীকী ভাবনায় তুলে ধরা হচ্ছে ‘গোড়ার কথা।’ প্রতিমা শিল্পী সনাতন পাল।’ (Durga pujo 2025)

লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/truthofbengal
থিমশিল্পী বিমল সামন্ত এখন শেষ মুহূর্তে তুলির টান দিতে ব্যস্ত। তাঁর এখন নাওয়াখাওয়ার সময় নেই। এবছর উত্তর কলকাতার আহিরীটোলা যুবকবৃন্দ ২০২৫ এর উৎসব প্রাঙ্গণ সাজবে আলো ও ছায়ার সংমিশ্রণে। থিমের নাম ‘রোশনাই’। থিম প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বিমল সামন্ত বলেন, ‘ রঙিন কাচের কারুকাজ থাকবে মণ্ডপে। আলো শুধু উৎসবের সৌন্দর্য নয়, এক গভীর সামাজিক মূল্যবোধেরও প্রতীক। রঙিন আলোর রোশনাই ও ঝলকানিতে সৃষ্টি হবে এমন এক স্বপ্নময় কল্পনার জগৎ যেখানে আলোর মধ্যে দিয়ে ফুটে উঠবে সমাজের ঐক্য, সৌন্দর্যবোধ, শ্রদ্ধা ও আনন্দের চেতনা। দুর্গাপুজোর এই প্রাঙ্গণে রঙিন আলো ও তার ছায়ায় তৈরী হবে এক কল্পলোক যেখানে দেবী মৃন্ময়ী মূর্তি হিসাবে নয় হয়ে উঠবেন নারীর মর্যাদা ও সামাজিক জাগরণের প্রতিরূপ। রঙিন ছায়া যেন আমাদের মনে করিয়ে দেবে আলো যেখানে পৌঁছায় সেখানেই কল্পনা উন্মুক্ত হয়। মানুষ স্বপ্ন দেখতে শেখে। এই কল্পনার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে ভবিষ্যতের রোশনাই।’ (Durga pujo 2025)