কলকাতা

নবান্নে বৈঠকের পরেই সুদীপ-বিরোধী পোস্টারে ছয়লাপ উত্তর কলকাতা!

পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পরপরই দল ছেড়ে দিল্লিতে গিয়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

Truth of Bengal: দিল্লি গিয়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার পর থেকেই উত্তর কলকাতার দীর্ঘদিনের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছিল। সম্প্রতি নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর নৈশ বৈঠকের পর সেই অসন্তোষ এবার প্রকাশ্যে চলে এল। মঙ্গলবার সকালে উত্তর কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকা এমনকি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের আশেপাশেই তাঁর বিরুদ্ধে বিতর্কিত পোস্টার দেখতে পাওয়া যায়, যেখানে তাঁকে ‘চোর’ ও ‘বেইমান’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই পোস্টারগুলির নিচে প্রচারক হিসেবে লেখা রয়েছে তৃণমূলের দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা—মন্ত্রী তাপস রায় এবং কালীঘাটের বিধায়ক কুণাল ঘোষের নাম। তবে একই সঙ্গে এর নেপথ্যে কোন গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে।

পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পরপরই দল ছেড়ে দিল্লিতে গিয়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগে থেকেই উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূলের দলীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ও বিভিন্ন প্রশাসনিক আলোচনায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক বচসা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। বিজেপি নেতৃত্বাধীন নতুন রাজ্য সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সুদীপের এই সাম্প্রতিক বৈঠক যেন সেই পুরনো ক্ষোভের আগুনে নতুন করে ঘি ঢালল। রাতারাতি পোস্টার ছড়িয়ে পড়ার পর সংশ্লিষ্ট সাংসদ এ বিষয়ে মুখে কুলুপ আঁটলেও তৃণমূল অন্দরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

অন্যদিকে পোস্টারে নিজেদের নাম থাকা সত্ত্বেও এর সঙ্গে কোনো প্রকার যোগাযোগের কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন তাপস রায় ও কুণাল ঘোষ। কুণাল ঘোষ জানান, এই ধরনের পোস্টার রাজনীতির সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে মন্ত্রী তাপস রায় এ বিষয়ে বলেন, পোস্টার কে বা কারা দিয়েছে তা তাঁর জানা নেই, কিন্তু সেখানে লেখা বক্তব্যের সঙ্গে তিনি একমত। তিনি দাবি করেন, এলাকার মানুষ ও দলীয় কর্মী—সবাই জানেন যে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোনো দরকারে পাশে পাওয়া যায় না, তাই তাঁকে নিয়ে জনমনে এই ক্ষোভ অস্বাভাবিক নয়।

Related Articles