মোদি-শাহদের সঙ্গেই এক সারিতে আসন! এনডিএ বৈঠকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা!
বিজেপি জোটে হু হু করে বাড়ছে বিদ্রোহীদের গুরুত্ব! দিল্লির এনডিএ সভায় লাইমলাইটে এনসিপিআই
Truth of Bengal: দিল্লির জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের গুরুত্ব যে কতটা বাড়ছে, তার আরও এক স্পষ্ট প্রমাণ মিলল মঙ্গলবার। এনডিএ (NDA)-র সংসদীয় দলের হাইভোল্টেজ বৈঠকে একেবারে সামনের সারিতে বসানো হল তৃণমূলের বিদ্রোহী নেত্রী তথা এনসিপিআই (NCPI)-র লোকসভার মুখ্যসচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মতো হেভিওয়েট নেতৃত্ব যে সারিতে আসীন ছিলেন, ঠিক সেই সারিতেই জায়গা করে নিলেন এই প্রবীণ সাংসদ। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শাসকজোট এনডিএ-তে তৃণমূলের বিদ্রোহী অংশের দর যে কতটা চড়চড় করে বাড়ছে, এই ঘটনা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মঙ্গলবার সকালে দিল্লিতে এনডিএ-র সংসদীয় দলের বিশেষ বৈঠক আয়োজিত হয়। সেখানে সামনের সারিতে উপবিষ্ট ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডার মতো শীর্ষ নেতৃত্ব। সেই এক ও অভিন্ন ভিআইপি সারিতেই স্থান পান এনসিপিআই নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার। মোদির ঠিক ডান দিকে পঞ্চম আসনে তাঁর বসার সুব্যবস্থা করা হয়েছিল। বৈঠকে কাকলি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের অপর প্রভাবশালী বিদ্রোহী সাংসদ শতাব্দী রায়।
সাম্প্রতিক নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস কাণ্ড নিয়ে গত সপ্তাহ থেকেই মোদি সরকারকে চেপে ধরেছে বিরোধী ইন্ডিয়া জোট। সোমবার লোকসভায় প্রশ্নফাঁস বিরোধী কড়া বিল পেশ করা হলেও বিরোধীদের তুমুল হট্টগোলে আলোচনা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি আসন পুনর্বিন্যাস বিলেও জরুরি সংশোধন এনে পুনরায় সংসদে পেশ করার প্রস্তুতি চালাচ্ছে কেন্দ্র। এমন এক উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মোদী-শাহের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই এনডিএ বৈঠক এবং সেখানে জোড়াফুল শিবিরের বিদ্রোহীদের প্রথম সারিতে গুরুত্ব দিয়ে বসানো রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এদিকে এনডিএ বৈঠকে কাকলি-শতাব্দীদের এই সক্রিয় উপস্থিতি নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানাতে ছাড়েনি কালীঘাটের মূল তৃণমূল নেতৃত্ব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায় তোপ দেগে বলেন, “এনসিপিআই-এর এই সাংসদেরা প্রত্যেকে তৃণমূলের টিকিটে ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দেখিয়ে ভোটে জিতে এসেছেন। তাঁরা বিজেপির বিরোধিতা করেই সাধারণ মানুষের রায় পেয়েছিলেন। আজ এভাবে তারা চরম বিশ্বাসঘাতকতা করে দল ছাড়লেন এবং বিজেপির জোটে সামিল হলেন। এই ধরনের মেরুদণ্ডহীন বিশ্বাসঘাতকতা নিয়ে নতুন করে আর কী-ই বা বলার থাকতে পারে!”





