কলকাতা

ধর্মতলায় নিট মিছিলে তাণ্ডব! সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনায় গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে ১৪

হেয়ার স্ট্রিট ও এন্টালি থানায় ৭টি কড়া মামলা! গুণ্ডাদমন আইনে চরম শাস্তির হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

Truth of Bengal: কলকাতার ধর্মতলায় নিট (NEET) আন্দোলনের ছাত্র মিছিল ঘিরে সৃষ্টি হওয়া তাণ্ডব ও সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় পুলিশের ব্যাপক তৎপরতা জারি রয়েছে। গত শুক্রবার ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে খবর কভার করার সময় একাধিক সাংবাদিককে হেনস্থা ও মারধরের ঘটনায় এবার গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৪। মূল অভিযুক্তদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার পরই চিরুনি তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে কলকাতা পুলিশের লালবাজার শাখা।

রবিবার সকালে লালবাজার সূত্রে প্রাপ্ত শেষ খবর অনুযায়ী, নতুন করে আরও ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতেরা হলো কড়েয়া এলাকার বাসিন্দা শাহবাজ খান, রাজাবাগানের বাসিন্দা শেখ মহম্মদ সলমান হোসেন এবং ভাঙড়ের বাসিন্দা মহম্মদ জহিরউদ্দিন মাল। পুলিশ জানিয়েছে, এর আগেই ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে মহম্মদ আজাদ ও মহম্মদ আফরোজ নামে দু’জন ঘটনার পরেই ভিনরাজ্যে পালিয়ে যাওয়ার ছক কষেছিল। তবে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অন্ডালের কাছে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের ওপর থেকে তাঁদের পাকড়াও করে পুলিশ। ভিডিও ফুটেজ দেখে ধৃতদের চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, ধৃতদের কেউই আদতে আন্দোলনকারী পড়ুয়া নয়!

প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাতের ঘটনার পরেই আহত সাংবাদিকদের দেখতে সরাসরি হাসপাতালে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরবর্তীতে শনিবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখার সময় মুখ্যমন্ত্রী জানান, ধর্মতলার ঘটনার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “খিদিরপুর, রাজাবাজার-সহ কলকাতার নানা প্রান্ত থেকে ভোটে হারা দলগুলি লোক সরবরাহ করে এই মারমুখী ভিড় জমা করেছিল। ডোরিনা ক্রসিংয়ে জলের বোতল, জুতো, পুলিশকে লক্ষ করে পাথর ছোড়া হয় এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়।” তিনি স্পষ্ট জানান, ভিডিও ফুটেজ দেখে ইতিমধ্যেই ৭০ জন হামলাকারীকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে এবং গুণ্ডাদমন আইনে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই তাণ্ডবের ঘটনাকে কেন্দ্র করে লালবাজারের হেয়ার স্ট্রিট থানায় ছয়টি এবং এন্টালি থানায় একটি, অর্থাৎ মোট সাতটি কড়া মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাতে যুক্ত করা হয়েছে গুন্ডাদমন আইন। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বাকি পলাতকদের সন্ধানেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Related Articles