দেশ

এক বৈঠকেই বদলে গেল খেলা! ‘ককরোচ’ ও কেন্দ্রের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে উঠে এলো কোন বড় খবর?

এর আগে সোমবার বিকেলে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে সরকারের প্রতি চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ এনে সরব হন ককরোচ মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা।

Truth of Bengal: বিহারের পর এবার অসমের বিজেপি সরকারও ‘ককরোচ’ বিক্ষোভের জেরে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে থাকা সব মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার মধ্যরাতে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বের সঙ্গে সরকারের প্রতিনিধিদের এক দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাত প্রায় একটার সময় দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই বৈঠকে বিহার এবং অসম সরকারের তরফে জারিকৃত মামলা প্রত্যাহারের বিজ্ঞপ্তি তুলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মোদী সরকারের তরফে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, এনডিএ শাসিত প্রতিটি রাজ্যেই আন্দোলনকারীদের ওপর থেকে সব আইনি পদক্ষেপ ও মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত করা হবে।

এর আগে সোমবার বিকেলে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে সরকারের প্রতি চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ এনে সরব হন ককরোচ মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা। তিনি জানান, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো পুলিশি পদক্ষেপ না নেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং বিহার ও বাংলাসহ একাধিক রাজ্যে বহু ছাত্রছাত্রীকে গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হয়েছে। এই সাংবাদিক বৈঠকের পরেই দ্রুত পদক্ষেপ করে প্রথম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিহার সরকার। সেখানে জানানো হয়, নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ধৃত ছাত্রছাত্রীদের মুক্তি দেওয়া হবে এবং সব মামলা প্রত্যাহার করা হবে। পরবর্তীতে গভীর রাতে একইভাবে সব মামলা তোলার সিদ্ধান্ত জানায় অসম সরকারও।

বৈঠক শেষে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্ব জানান, মঙ্গলবার রাতের মধ্যেই অন্যান্য রাজ্যগুলো থেকেও অনুরূপ বিজ্ঞপ্তি জারি করার আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্র। সরকারের তরফে নিশ্চিত করা হয়েছে, ভবিষ্যতে এসব আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এবং ধৃতদের দ্রুত মুক্তি দেওয়া হবে। তবে সম্প্রতি কলকাতার ডোরিনা ক্রসিংয়ে ‘ককরোচ’দের মিছিল ঘিরে অশান্তি ও পুলিশকে লক্ষ্য করে জুতো-জলের বোতল ছোড়ার ঘটনায় ধৃত ১৬ জনের মুক্তি বা মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে রাজ্য প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।