জঙ্গলপথে সাইকেল র্যালি, বন্যপ্রাণ ও পরিবেশ রক্ষায় অভিনব উদ্যোগ প্রশাসনের
জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে মেদিনীপুর শহরের রাঙ্গামাটি থেকে পিড়াকাটা পর্যন্ত এই দীর্ঘ সাইকেল র্যালির আয়োজন করা হয়।
Truth Of Bengal: শান্তনু পান, পশ্চিম মেদিনীপুর: বন্যপ্রাণ ও পরিবেশ সংরক্ষণকে সামনে রেখে মানুষের দুয়ারে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে অভিনব উদ্যোগ নিল বনদফতর ও জেলা প্রশাসন। শনিবার মেদিনীপুরে জঙ্গলপথ ধরে প্রায় ৩০ কিলোমিটার সাইকেল র্যালি করলেন প্রশাসন ও বনদফতরের শীর্ষ আধিকারিকরা। এই র্যালিতে অংশ নেন মেদিনীপুরের জেলাশাসক, পুলিশ সুপার-সহ একাধিক বনকর্তারা।
জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে মেদিনীপুর শহরের রাঙ্গামাটি থেকে পিড়াকাটা পর্যন্ত এই দীর্ঘ সাইকেল র্যালির আয়োজন করা হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন মুখ্য বনপাল এস কুণাল ডিভাল, পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা, জেলার পুলিশ সুপার পলাশ চন্দ্র ঢালী-সহ প্রশাসন ও বনদপ্তরের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। র্যালি দেখতে রাস্তার দু’ধারে ভিড় জমান সাধারণ মানুষ।বনদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরতেই এই সচেতনতা র্যালির আয়োজন।
মুখ্য বনপাল এস কুণাল ডিভাল বলেন,পরিবেশ ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের বার্তা পৌঁছে দিতেই এই সাইকেল র্যালি। আশার বিষয়, জঙ্গলমহলের মানুষ এই বিষয়ে এমনিতেই যথেষ্ট সচেতন।তিনি আরও জানান, ২০০৫ সালে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় যেখানে হাতির সংখ্যা ছিল মাত্র ৪০, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ২৪০-এ পৌঁছেছে। শুধু হাতি নয়, নেকড়ে, শেয়াল-সহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে বনাঞ্চলে আগুন লাগানোর ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্য বনপাল। তাঁর কথায়, বনরক্ষা ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে কোনওরকম ছাড় দেওয়া হবে না।হাতি-মানুষের সংঘাত প্রসঙ্গে জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা বলেন,এই সমস্যা নিয়ে বনদপ্তর ও রাজ্য সরকার একযোগে কাজ করছে। সংঘাত কমাতে প্রশাসনের তরফে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।বনদফতর ও জেলা প্রশাসনের এই যৌথ উদ্যোগে পরিবেশ সচেতনতা ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও ছড়িয়ে পড়বে বলেই আশাবাদী প্রশাসন।






