দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, চন্দ্রকোনায় শুরু হল নতুন সেতু নির্মাণ
বাধ্য হয়ে সেতুর এক প্রান্তে অ্যাম্বুলেন্স দাঁড় করিয়ে, হেঁটেই বেহাল সেতু পেরিয়ে রোগীকে নিয়ে যেতে হত।
সুমন মন্ডল, ঘাটাল: দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটতে চলেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা ২ নম্বর ব্লকের খুড়শী এলাকায়। অবশেষে বেহাল সেতুর বদলে সেখানে শুরু হয়েছে নতুন কংক্রিটের সেতু নির্মাণ। এই সেতু তৈরি হলে আর ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হবে না এলাকাবাসীকে—এমনটাই আশা করছেন স্থানীয় মানুষজন।
এতদিন জরাজীর্ণ ও ভাঙাচোরা সেতু দিয়েই চলাচল করতে হতো ১৫ থেকে ১৬টি গ্রামের বাসিন্দাদের। মুমূর্ষু রোগী, গর্ভবতী মহিলা থেকে শুরু করে স্কুল পড়ুয়া—প্রত্যেককেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই সেতু পার হতে হতো। গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত সরাসরি পৌঁছতে পারত না। বাধ্য হয়ে সেতুর এক প্রান্তে অ্যাম্বুলেন্স দাঁড় করিয়ে, হেঁটেই বেহাল সেতু পেরিয়ে রোগীকে নিয়ে যেতে হত।
নতুন কংক্রিটের সেতু নির্মাণ হলে শুধু ওই ১৫–১৬টি গ্রামের মানুষই নয়, আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ উপকৃত হবেন। চন্দ্রকোনা কৃষিপ্রধান এলাকা হওয়ায় কৃষকদের কাছেও এই সেতু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেতু তৈরি হলে কৃষিজ পণ্য সহজে ও দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন কৃষকরা।এই সেতু নির্মাণে মোট বরাদ্দ করা হয়েছে ৭৩.৪৭ লক্ষ টাকা। সম্প্রতি চন্দ্রকোনা ২ নম্বর ব্লকের বিডিও উৎপল পাইক ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আলোক ঘোষ নির্মীয়মাণ সেতুর কাজ পরিদর্শন করেন। তাঁরা কাজের অগ্রগতি ও গুণগত মান খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন।
এলাকাবাসী সন্তোষ জানা বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। আগে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হতো। বহু নিত্যযাত্রী ভাঙা সেতু থেকে পড়ে আহত হয়েছেন। এখন নতুন সেতু হলে আমরা সত্যিই স্বস্তি পাব।চন্দ্রকোনা ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আলোক ঘোষ জানান, দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হতে চলেছে। এই সেতু তৈরি হলে ১০ থেকে ১৫টি গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। রাস্তাঘাট ভাল হলে যেমন এলাকার মানোন্নয়ন হবে, তেমনই কৃষিনির্ভর এলাকায় কৃষিজ পণ্য বাজারজাত করা সহজ হবে। নতুন সেতু নির্মাণকে ঘিরে এখন খুশির হাওয়া খুড়শি এলাকাজুড়ে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় স্বস্তি ফিরছে জনজীবনে।





