রাজ্যের খবর

প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হতেই বদলা! আন্দুলে প্রকাশ্যে ছাত্রীকে কুপিয়ে খু*ন, যুবককে গণধোলাই স্থানীয়দের

কথা কাটাকাটি হতেই পকেট থেকে বেরোল ধারালো ছুরি! আন্দুলে নাবালিকার মর্মান্তিক পরিণতিতে রণক্ষেত্র এলাকা!

Truth of Bengal: ভর সন্ধ্যায় প্রকাশ্য রাস্তায় এক স্কুলছাত্রীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল হাওড়ার আন্দুলে। ল্যাম্পপোস্টের আলোয় যখন চারপাশ ব্যস্ত, ঠিক তখনই এক নাবালিকার ওপর চড়াও হয় এক যুবক। তড়িঘড়ি রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। কয়েক ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে হাসপাতালেই শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করে দশম শ্রেণির ওই পড়ুয়া। অন্যদিকে, ঘটনার নৃশংসতা দেখে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত যুবককে হাতেনাতে ধরে ফেলে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় অভিযুক্তও বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বুধবার ভরসন্ধ্যায় আন্দুলের খটির বাজার চাঁদনিবাগান এলাকায় এই হাড়হিম করা ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত সেখানে পৌঁছায় ডোমজুড় থানা এবং হাওড়া সিটি পুলিশের পদস্থ আধিকারিকরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত নাবালিকার বাড়ি আন্দুলের দক্ষিণ মহিয়াড়ি চাঁদনিবাগান এলাকায়। অন্যদিকে, ধৃত ২৭ বছর বয়সী যুবকের নাম সমীর দাস, যার আদি বাড়ি বীরভূমের ময়ূরেশ্বরে। সে হাওড়ার জালান কমপ্লেক্স এলাকায় কাজ করত এবং সেই সূত্রেই ওই নাবালিকার সঙ্গে তার আলাপ হয়েছিল।

সম্পর্কের টানাপোড়েন নাকি একতরফা চাপ?

প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানতে পেরেছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে প্রেমঘটিত কারণ। সমীর ওই নাবালিকাকে প্রেমের সম্পর্কের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কোনওভাবে জোর জবরদস্তি করছিল বলে অভিযোগ। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় রাস্তায় দেখা হতেই দু’জনের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, ঝগড়া চরম রূপ নিতেই আচমকা পকেট থেকে একটি ধারালো ছুরি বের করে নাবালিকাকে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে সমীর।

পাবলিকের হাতে গণধোলাই অভিযুক্তের

চোখের সামনে এমন মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। তাঁরা রক্তাক্ত মেয়েটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করার পাশাপাশি সমীরকে ঘিরে ফেলেন। এলাকা ছেড়ে পালানোর আগেই তাকে ধরে গণপিটুনি দেওয়া শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে দু’জনকেই উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় নাবালিকাকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, গণপিটুনিতে গুরুতর আহত সমীরকে ডোমজুড় গ্রামীণ হাসপাতালে কড়া পুলিশি পাহারায় রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা রয়েছে।