কলকাতা

মিড-ডে মিলে ডিম বিতর্ক উড়িয়ে ইসকনের পাশেই দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী! রথযাত্রার মঞ্চ থেকে বাংলার নবনির্মাণের বড় বার্তা

“শিশুদের খাবার নিয়ে অনিয়ম করা পাপের সমান!”, ইসকনের রথযাত্রার মঞ্চ থেকে মিড-ডে মিল দুর্নীতি নিয়ে তোপ শুভেন্দুর!

Truth of Bengal: রথযাত্রা (Rath Yatra 2026) উপলক্ষে কলকাতার অ্যালবার্ট রোডের ইসকন (ISKCON) মন্দিরে উপস্থিত হয়ে ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি রাজ্যের অন্যতম চর্চিত প্রকল্প মিড-ডে মিল (Mid-Day Meal) নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। রাধামাধবের বিগ্রহের সামনে ভক্তিভরে আরতি করার পর তাঁর হাত দিয়েই এ বছরের ইসকনের রথযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এই উৎসবের মঞ্চ থেকেই ইসকনের সামাজিক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করার পাশাপাশি, সরকারি স্কুলের মিড-ডে মিল প্রকল্পের দায়িত্ব তাদের হাতে তুলে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের সপক্ষে জোরালো সওয়াল করেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একাধিক নীতিগত পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান বিজেপি সরকার। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে সরকারি স্কুলের মিড-ডে মিল প্রকল্পের দায়িত্ব ইসকনের হাতে তুলে দেওয়ার পদক্ষেপটি। ইসকনের নিজস্ব খাদ্যতালিকায় ডিম না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই স্কুলপড়ুয়াদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, তা নিয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের একাংশ প্রশ্ন তুলেছিল।

এই সমস্ত বিতর্কের মধ্যেই রথযাত্রার পুণ্যলগ্নে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং ইসকন যৌথভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ শুরু করেছে। দেশের একাধিক বড় শহরে ইসকনের এই ধরনের সামাজিক উদ্যোগ সফলভাবে পরিচালনা করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা রেখেই পশ্চিমবঙ্গেও তারা এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, স্কুলের মিড-ডে মিল প্রকল্পের মূল লক্ষ্য শুধু পেট ভরানো নয়, শিশুদের সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা। তাঁর কথায়, “একটা ভাল, পুষ্টিকর আহার পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আমাদের স্কুলগুলিতে যে ছাত্রছাত্রীরা মিড-ডে মিল গ্রহণ করে, তারা মূলত মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের সন্তান। সচ্ছল পরিবারের শিশুরা এই প্রকল্পের উপর নির্ভর করে না। তাই অপুষ্টি দূর করতে পুষ্টিকর খাবারের বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি পরিচ্ছন্ন ও স্বচ্ছ উপায়ে খাবার প্রস্তুত ও বিতরণের উপর জোর দিয়ে বলেন, এই প্রকল্পে দুর্নীতির কোনও জায়গা থাকা উচিত নয়।

এই প্রসঙ্গেই পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তীব্র আক্রমণ শানান শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে মিড-ডে মিল প্রকল্পকে ঘিরে নানা ধরনের দুর্নীতির অনভিপ্রেত ঘটনা সামনে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, “শিশুদের খাবার নিয়ে অনিয়ম করা পাপের সমান। আগামী দিনে ইসকন এই দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে আমাদের শিশুদের কাছে উন্নত মানের পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেবে। সেটাই আমাদের প্রধান কর্তব্য।”

এদিন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, প্রশাসন শুধু সরকারি আধিকারিক বা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সমাজকল্যাণমূলক কাজে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলা বিভিন্ন সংগঠনের অভিজ্ঞতাকেও রাজ্য সরকার কাজে লাগাতে চায়। তিনি ঘোষণা করেন, “আমরা ইসকন, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ এবং মানুষের সেবায় নিয়োজিত অন্যান্য সংগঠনকে সঙ্গে নিয়েই বাংলার নবনির্মাণের পথে এগোতে চাই।” রথযাত্রার মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য একদিকে যেমন ইসকনের প্রতি সরকারের গভীর আস্থার বার্তা দিল, তেমনই মিড-ডে মিল বিতর্ক নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিল।

Related Articles