রাজ্যের খবর

“ও বাঘের মতো লড়ছে!”, দলত্যাগীদের মুখে ঝামা ঘষে অভিষেকের পাশে দাঁড়ালেন মমতা!

মদন মিত্র দল ছাড়তেই মোক্ষম চাল মমতার! দলত্যাগীদের ‘বাহানা’ ফাঁস করে দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী

Truth of Bengal: তৃণমূলের অন্দরে এখন চরম ভাঙন। আর দলত্যাগী ‘বিদ্রোহী’ নেতাদের তিরে রয়েছেন মূলত একজনই, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মদন মিত্র থেকে শুরু করে অনুব্রত মণ্ডল, দল ছাড়ার সময় প্রত্যেকেই ‘সমস্যা’ হিসেবে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন অভিষেককে। এই পরিস্থিতিতে আর মুখ বুজে থাকলেন না তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ফেসবুক লাইভে এসে ভাইপোর হয়ে ব্যাট ধরলেন তিনি। দলত্যাগীদের আক্রমণ করে সাফ জানালেন, “অভিষেককে খারাপ বলাটা এখন আপনাদের বাহানা হয়ে গিয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, অভিষেক এখনও ‘বাঘের মতো’ লড়ে যাচ্ছেন এবং তাঁর সব ভুল তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন।

ঘটনাচক্রে, বুধবারই মমতার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গী মদন মিত্র যোগ দিয়েছেন ঋতব্রত শিবিরে। দলবদল করেই মদন অভিযোগ তোলেন, অভিষেকের জন্য অনেককে জেলে যেতে হয়েছে। ঠিক এমন সময়েই লাইভে এসে দলত্যাগীদের মুখোশ খুলে দেন মমতা। তিনি বলেন, “আপনাদের কাছে অভিষেক অনেক খারাপ, ওটা একটা বাহানা মাত্র। অভিষেকের বউ যদি দেড় বছরের বাচ্চাকে নিয়ে সিবিআই অফিসে যেতে পারে… একটু সেটিং করে নিলে তো সবচেয়ে বেশি স্বস্তি ওরাই পেতে পারত! কিন্তু ওরা আপস করেনি।”

“তৃণমূলের সোনার খনি এরাই!”

মমতার অভিযোগ, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে দলের নেতাদের ভয় দেখানো হচ্ছে। তাঁদের বলা হচ্ছে, “হয় সেটিং কোম্পানিতে নাম লেখান, নয়তো জেলে যান।” প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “আমি যদি নিজে সেটিং করে নিতাম, তা হলে তো আমার দলের কর্মীদের এই অত্যাচার সহ্য করতে হত না।” কঠিন সময়েও যাঁরা এখনও তাঁর পাশে রয়েছেন, তাঁদেরই তৃণমূলের ‘সোনার খনি’ বলে অভিহিত করেছেন নেত্রী।

“তিনটি প্রজন্ম তৈরি করেছি, ওরাই আগামী ৫০ বছর লড়বে”

অভিষেকের ভূয়সী প্রশংসা করে মমতা মনে করিয়ে দেন, দলে তিনি তিনটি প্রজন্ম তৈরি করে রেখেছেন। তাঁর কথায়, “এরাই আগামী দিনে লড়াই করবে, কারণ এরা আগামী ৫০ বছর রাজনীতি করবে। আমি ওদের মাথার উপর ছাতার মতো থাকব। যতক্ষণ লড়াই শেষ না হচ্ছে, কেউ আমার কণ্ঠরোধ করতে পারবে না।”

লাইভে নাম না করে মদন মিত্রের বিদায় নিয়েও মুখ খোলেন নেত্রী। তিনি জানান, “আজও একজন চলে গিয়েছে। আমার কোনও দুঃখ নেই। ও আমাকে কালই মেসেজ করে বলেছিল, পরিবারকে ইডি তলব করেছে। তখনই আমরা বুঝে গিয়েছিলাম।” মমতা জানান, ওই মেসেজ পাওয়ার সাথে সাথেই কামারহাটির বিধায়ককে কালীঘাট-তৃণমূলের সব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই ভাঙনের ঝড়ের মধ্যেও মমতার এ দিনের ফেসবুক লাইভ বুঝিয়ে দিল, তিনি একচুলও পিছু হঠতে রাজি নন।

Related Articles