ওপার বাংলা

শোকাতুর পরিবারের পাশে রাষ্ট্র, দীপু দাসের পরিবারের দায়িত্ব নিল ইউনূস সরকার

২৫ বছরের দীপুকে কয়েক জন পিটিয়ে খুন করে দেহ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। 

Truth Of Bengal: ময়মনসিংহে নৃশংস হত্যাকাণ্ডে নিহত দীপু দাসের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা করল মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের এক উচ্চপদস্থ উপদেষ্টা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রের তরফে দীপুর স্ত্রী, সন্তান এবং বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দেখভালের ব্যবস্থা করা হবে। ২৫ বছরের দীপুকে কয়েক জন পিটিয়ে খুন করে দেহ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশের শিক্ষা উপদেষ্টা সিআর আবরার ময়মনসিংহে গিয়ে নিহত দীপুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে তিনি এই হত্যাকাণ্ডকে ‘পাশবিক অপরাধ’ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এই ধরনের অপরাধের কোনও অজুহাত হতে পারে না। পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর আবরার জানান, ‘‘দীপু দাসের সন্তান, স্ত্রী এবং বাবা-মায়ের দায়িত্ব রাষ্ট্র নিয়েছে। আইন অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

আবরার আরও জানান, পরিবারের সঙ্গে দেখা করার আগেই তাঁর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কথা হয়েছে। ইউনূস ব্যক্তিগতভাবে দীপুর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি। ‘প্রথম আলো’ সূত্রে খবর, দীপুর বাবা রবিচন্দ্র দাস ছেলের হত্যার সঠিক বিচার দাবি করেছেন এবং উপদেষ্টার কাছে পরিবারের বর্তমান দুর্দশার কথাও তুলে ধরেছেন।

এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। ইউনূস সরকারের সংবাদমাধ্যম শাখার তরফে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘অভিযোগ, গুজব বা বিশ্বাসের পার্থক্য কখনও হিংসার অজুহাত হতে পারে না। আইন নিজের হাতে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।’’ সরকার নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের আশ্বাসও দিয়েছে।

তদন্ত প্রসঙ্গে উপদেষ্টা আবরার বলেন, ‘‘তদন্ত চলছে। যারা দায়ী, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ধরনের হিংসার বিরুদ্ধে আইন তার পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করবে।’’ তিনি আরও বলেন, কিছু দুষ্কৃতী গোষ্ঠী সমাজে বিভাজন উস্কে দিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। ধর্ম বা পরিচয় নির্বিশেষে সব নাগরিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে স্পষ্ট করেন তিনি।

দীপু হত্যার পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে। ভারত এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রাষ্ট্রপুঞ্জও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, বাংলাদেশে প্রত্যেক নাগরিকেরই নিরাপদ বোধ করার অধিকার রয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকার সেই দায়িত্ব পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনার পর থেকেই বাংলাদেশে উত্তেজনা ছড়ায়। সেই আবহেই ময়মনসিংহে দীপু দাসকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে এবং ঢাকায় একাধিক জায়গায় অশান্তির ছবি সামনে আসে। দীপুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইউনূস সরকার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়লেও, এবার নিহতের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে অন্তর্বর্তী প্রশাসন।

Related Articles