Bangla Jago Desk: ঢাকায় দুষ্কৃতীরা হাদিকে একদম কানের পাশ থেকে গুলি করে আহত করেন। মূল অভিযুক্তকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তাকে খুঁজে পেতে দেশজুড়ে লুকআউট নোটিস জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি, আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তের বিদেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। হাদির হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়ানো হিংসাত্মক বিক্ষোভের মধ্যে তদন্তে গতি আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ঢাকার একটি আদালত রবিবার ফয়সাল করিম মাসুদকে দেশ ছাড়তে নিষেধ করেছে। তদন্তকারীরা তাকে শরিফ ওসমান হাদির হত্যার মূল শুটার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আদালতের নির্দেশের পর পুলিশ জানিয়েছে, মাসুদসহ হামলায় জড়িত অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও লুকআউট নোটিস জারি করা হয়েছে। দেশের যে কোনো প্রান্তে তাদের অবস্থান শনাক্ত হলেই গ্রেফতার করা হবে। নিরাপত্তা সংস্থার ধারণা, ফয়সাল করিম মাসুদ এখনও বাংলাদেশে লুকিয়ে রয়েছেন, তবে গ্রেফতার এড়াতে ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করছেন। ধরতে একাধিক তদন্তকারী দল কাজ করছে, নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং মোবাইল ট্র্যাকিংসহ বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
৩২ বছরের যুব নেতা শরিফ ওসমান হাদি ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ইনকিলাব মঞ্চ এবং সিঙ্গাপুর প্রশাসন বৃহস্পতিবার তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।
শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন বাংলাদেশের ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের একটি মুখ্য ব্যক্তিত্ব। তিনি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। এছাড়াও, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সম্ভাব্য সাধারণ নির্বাচনে ঢাকা-৮ কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতিও চলছিল তার।
রাজনৈতিক মহলে হাদি পরিচিত ছিলেন তার তীব্র ভারত-বিরোধী অবস্থানের জন্য। বিশেষ করে গত বছরের গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে যাওয়ার ঘটনায় ভারতের ভূমিকা নিয়ে তিনি সরব ছিলেন।
হাদির মৃত্যুর পর থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সমর্থক ও ছাত্র সংগঠনগুলি দ্রুত গ্রেফতার এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে পথে নামে। প্রশাসন একদিকে হিংসা এড়ানোর বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছে।






