ওপার বাংলা

ছায়ানটে তাণ্ডব: অজ্ঞাতনামা অন্তত ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের কর্তৃপক্ষের!

ধানমন্ডি থানার ওসি সইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে একদল দুষ্কৃতী জোর করে ছায়ানটের ছ’তলা সাংস্কৃতিক ভবনে ঢুকে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়।

Truth Of Bengal: ঢাকার ধানমন্ডিতে ছায়ানট সাংস্কৃতিক ভবনে ভাঙচুরের ঘটনায় অবশেষে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ছায়ানটের ম্যানেজার দুলাল ঘোষ শনিবার ধানমন্ডি থানায় ৩০০ থেকে ৩৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন বলে জানা গিয়েছে সূত্র মারফত। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাঙচুর, লুটপাট এবং অস্ত্র-সহ হামলার চেষ্টার অভিযোগে এই মামলা রুজু হয়েছে।

ধানমন্ডি থানার ওসি সইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে একদল দুষ্কৃতী জোর করে ছায়ানটের ছ’তলা সাংস্কৃতিক ভবনে ঢুকে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। ছায়ানটের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ভবনের একাধিক অংশে ভাঙচুর চালানো হয় এবং কিছু জায়গায় আগুন লাগানোর চেষ্টাও করা হয়। ভবনে থাকা সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে দেওয়া হয়। একাধিক অডিটোরিয়াম ও ঘর সম্পূর্ণভাবে লন্ডভন্ড হয়ে যায়।

ছায়ানটের ওই বিবৃতিতে সভাপতি সারোয়ার আলি এবং সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমেদ লিসার সই রয়েছে। সেখানে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভেতরে থাকা বহু মূল্যবান বাদ্যযন্ত্র ভেঙে ফেলে। পাশাপাশি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি ও বই পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ছেঁড়া হয়েছে ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত সনজীদা খাতুনের ছবি। রেহাই পায়নি লালন কিংবা বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ছবিও।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ যখন পূর্ব পাকিস্তান ছিল, সেই সময়েই ছায়ানটের প্রতিষ্ঠা। বাংলা নববর্ষ উদ্‌যাপনে ছায়ানটের ভূমিকা ঐতিহাসিক, এবং তাদের নববর্ষ উৎসব ইউনেস্কোর স্বীকৃতিও পেয়েছে। তবে গত বছরের ৫ অগস্ট রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে কয়েকটি কট্টরপন্থী সংগঠন প্রকাশ্যে বাংলা নববর্ষ ও সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে আসছে।

এই আবহেই বৃহস্পতিবার রাতে ওসমান হাদির মৃত্যুর পর ছায়ানটে হামলার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, কট্টর ইসলামপন্থী স্লোগান দিতে দিতে সংগঠিত মিছিল করে এসে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটিতে আক্রমণ চালানো হয়। ঘটনার পরদিন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ছায়ানট ভবন পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনের পর তিনি বলেন, “এই শোকের মুহূর্তে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করতে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানটে হামলা চালিয়েছে। কোনও মৃত্যুকে অজুহাত করে সাংস্কৃতিক সংগঠনে আক্রমণ কেবল একটি ফৌজদারি অপরাধ নয়, তা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনারও পরিপন্থী।”

ছায়ানটের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, তাদের কাজের ক্ষেত্র রাজনীতি নয়। সংগীত ও সংস্কৃতির মাধ্যমে বাঙালি জাতিসত্তাকে ধারণ করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের সমাজ গড়তেই ছায়ানট দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। এই আদর্শের পরিপন্থী এই হামলার ঘটনার বিচার চেয়ে এবার আইনগত পথেই এগোল সংগঠনটি।

Related Articles