Truth Of Bengal: বাংলাদেশে ইসলামিক কট্টরপন্থী নেতা শরিফ ওসমান বিন হাদিকে পূর্বঘোষিত অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে সমাহিত করা হয়েছে। এর আগে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় লক্ষাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন হাদির জানাজা বা প্রার্থনা সভায়।
এই সভায় প্রধান উপদেষ্টা মুহম্মদ ইউনুসের ভাষণ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও জানাজা ইসলামিক রীতি অনুসারে অনুষ্ঠিত হয়, তবু প্রার্থনা চলাকালীন সময়ে ভারতের বিরোধিতার স্লোগান ঘন ঘন শোনা যায়। এতে পরিষ্কার হয়ে যায় যে, হাদি কেবল ধর্মীয় নেতা নয়, রাজনৈতিক প্রভাবও রেখেছিলেন।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ছিলেন হাদি। তার রাজনৈতিক দর্শন জামায়াতে ইসলামির সঙ্গে যুক্ত এবং তিনি ভারতের প্রভাববাদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী প্রচারণা চালিয়েছেন। ইনকিলাব মঞ্চের নেতাদের মতে, হাদি কেবল একজন রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন না, বরং একটি আদর্শের নাম। ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তার সংগ্রাম নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
হাদি ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন সীমান্ত হত্যা, জলবন্টন চুক্তি এবং অন্যান্য চুক্তির বিরুদ্ধেও। পাশাপাশি, তিনি কখনও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে সমর্থনের হুমকি দিয়েছেন। জামায়াতে ইসলামি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত এই তরুণ নেতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে কট্টর ভারত-বিরোধী ভাবমূর্তির প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। হাদির হত্যার পর, জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ভারত-বিরোধী জিহাদের ডাক দেন। তবে বাংলাদেশের বিদেশ উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন স্পষ্ট করেছেন, তাঁর বক্তব্য সরকারী অবস্থান নয়।
এর পাশাপাশি, প্রধান উপদেষ্টা মুহম্মদ ইউনুস জানাজায় বক্তব্য দিয়ে হাদির আদর্শ এবং কাজের প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, “প্রিয় হাদি, আজ আমরা তোমাকে বিদায় জানাতে আসিনি। এসেছি তোমার স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার করতে। আমরা তোমার নির্দেশিত মন্ত্র অক্ষরে অক্ষরে মান্য করব এবং তোমাকে সমগ্র বাংলাদেশবাসী হৃদয়ে ধারণ করবে।” এই মন্তব্য শোকসভায় উপস্থিতদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং কূটনৈতিক মহলে এটি ভারতের বিরুদ্ধে সংঘাতের সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, হাদি ভারত বিরোধী মনোভাবকে নির্বাচনী রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছিলেন। ঢাকার বাংলা মোটর এলাকায় তিন হাজার স্কয়ার ফিটের অফিস ভাড়া নেওয়া ইনকিলাব মঞ্চ পরিচালনা করত। হাদির মৃত্যুর পর সেই অফিস বন্ধ হয়ে গেছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, জামায়াতের নির্দেশে হাদি পুরো দেশজুড়ে ভারত বিরোধী প্রচারণা চালিয়েছিলেন।
হাদিকে হত্যার মামলায় পুলিশের গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন ফয়সাল। গত এক বছরে চাঁদাবাজি ও তোলাবাজির অভিযোগে তাকে দু’বার অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়। দুইবারই জামিন পান জামাত-শিবিরের একজন প্রভাবশালী আইনজীবীর মাধ্যমে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচনের আগে কি ভারত বিরোধিতাকে ত্বরান্বিত করতে হাদিকে হত্যা করা হয়েছিল?






