Agri Horticultural Society: উইলিয়াম কেরির হাত ধরে কীভাবে বদলেছিল ভারতের কৃষিচিত্র?
ইউরোপীয় রীতিতে আধুনিক পদ্ধতিতে ভারতে খাদ্যগুণসম্পন্ন ফসলের চাষ করতে এগ্রিকালচার সোসাইটি গড়েন রেভারেন্ড উইলিয়াম কেরি আর যোশুয়া মার্শম্যান।
Truth of Bengal: ২ শতক আগে গোটা বিশ্বের মোট ভূখণ্ডর ৩.২৪% ছিল ব্রিটিশ শাসিত ভারতের মোট আয়তন। পশ্চিমে নর্থ ওয়েস্ট ফ্রন্টিয়ার প্রদেশ থেকে পূর্বে বর্মা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিস্তার। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ২০% বসবাস করত ভারতে। ভারতীয় উপমহাদেশে জিডিপির প্রধান অংশ ছিল কৃষি। কৃষিই আসল সম্পদ, এই আপ্তবাক্যকে অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলত ব্রিটিশরা। তুলো, সিল্ক, পাটের মতো যে সব চাষ থেকে আয় হয় সেই সব ফসলের চাষের ওপর জোর দেওয়া হয়। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রধান ডক্টর উইলিয়াম কেরি আর শ্রীরামপুর মিশনের যোশুয়া মার্শম্যান মিলে ১৮২০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর এগ্রিকালচার সোসাইটি গড়েন। ইউরোপীয় রীতিতে আধুনিক পদ্ধতিতে ভারতে খাদ্যগুণসম্পন্ন ফসলের চাষ করতে এগ্রিকালচার সোসাইটি গড়েন রেভারেন্ড উইলিয়াম কেরি আর যোশুয়া মার্শম্যান। ১৮২৪ সালে কাজের পরিধি বাড়িয়ে তোলার জন্য এগ্রিকালচার সোসাইটির নাম বদলে রাখা হয় এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড হর্টিকালচার সোসাইটি। পরে এর সদস্য হন রাধাকান্ত দেব ও রামকমল সেন।
এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড হর্টিকালচার সোসাইটির আসল উদ্দেশ্য ছিল কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক বদল ঘটিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষবাস করা। উইলিয়াম কেরি ১৭৯৩ সালে বাংলায় আসেন। গ্রামে থাকতে শুরু করেন। বোটানিস্ট উইলিয়াম কেরি কৃষিকাজকে হাতের তালুর মতো বুঝতেন। ভারতপ্রেমী উইলিয়াম কেরিকে গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আধুনিক বাংলার জনক বলতেন। আলিপুরে অবস্থিত এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড হর্টিকালচার সোসাইটির নাম বদলে হয় দ্য এগ্রি হর্টিকালচারাল সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া। প্রায় ৭ হাজার বছর আগে দক্ষিণ আমেরিকার পেরু ও বলিভিয়ায় প্রথম আলু চাষ শুরু করেন। পরে সেই আলু চাষ শুরু হয় আমেরিকায়। ১৬ শতকে আমেরিকা থেকে স্প্যানিশ বণিকদের হাত ধরে ইউরোপে শুরু হয় আলু চাষ। তেমনই ফুলকপি, বাঁধাকপি ও ব্রকলির চাষ হত ভূমধ্যসাগরের তীরে সাইপ্রাসে। ১৬ শতকে ফরাসিদের হাত ধরে এসব ফসলের চাষ শুরু হয় ইউরোপে। পারস্য থেকে গাজর চাষের প্রচলন শুরু হয় দক্ষিণ পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপে। প্রাচীন সময় গ্রিস, মিশর ও রোমে বিট চাষ হত। সেখান থেকে আমেরিকা, কানাডা ও ব্রিটেনে শুরু হয় বিট চাষ। ১৮ শতকের আগে কেউ ভাবতেই পারতেন না ভারতের আবহাওয়ায় এসব ফসল ফলানোর কথা।
বিভিন্ন দেশ থেকে নতুন রকম প্রজাতির সবজির চারা ও বীজ এনে যাতে ফসলের উৎপাদন বাড়ানো যায় তার জন্য বিশেষ উদ্যোগী হয় দ্য এগ্রি হর্টিকালচারাল সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া। গবেষণা চালানো হয়, চাষে উৎসাহ দিতে পত্রিকা বের করা হয়। ফলে সমাজের তথাকথিত নীচুতলার মানুষের মধ্যে এসব অর্থকরী ফসল ফলানোয় আগ্রহ বৃদ্ধি হয়। বিদেশ থেকে আনা হয় উচ্চ ফলনশীল ভুট্টা, ধান, আলু, বিট, গাজর, টোম্যাটো, ফুলকপি ও বাঁধাকপির বীজ ও চারা। পাশাপাশি আনা হয় নানান প্রজাতির ফুলগাছও।




