রাজ্যের খবর

শাহী প্রতিশ্রুতি রাখল নবান্ন, কোটি টাকায় শ্যামাপ্রসাদের পৈতৃক ভিটে কিনল রাজ্য সরকার

এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপে এতদিন ব্যক্তিগত পরিসরে থাকা ‘বাংলার বাঘ’ আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের পরিবারের এই ভিটেটি এখন থেকে পুরোপুরি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তিতে পরিণত হল

Truth of Bengal: নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চ থেকে দেওয়া কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বহুপ্রতীক্ষিত আশ্বাস অবশেষে বাস্তবের রূপ নিল। হুগলির বলাগড়ের জিরাটে অবস্থিত ভারত কেশরী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক পৈতৃক ভিটেটি সরাসরি কিনে নিল রাজ্য সরকার। মাত্র কয়েক দিনের দ্রুততায় জেলাস্তরে প্রশাসনিক বৈঠক সম্পন্ন করার পর বাড়িটি তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের নিজস্ব মালিকানাধীনে আনা হয়েছে। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপে এতদিন ব্যক্তিগত পরিসরে থাকা ‘বাংলার বাঘ’ আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের পরিবারের এই ভিটেটি এখন থেকে পুরোপুরি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তিতে পরিণত হল।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের চার উত্তরসূরির থেকে সম্পূর্ণ ভিটেটি কিনতে রাজ্য সরকারের ব্যয় হয়েছে মোট ১ কোটি ২৫ লক্ষ ৯৯ হাজার ৮২২ টাকা। গত ৩ জুলাই কলকাতার ‘রেজিস্ট্রার অফ অ্যাসিওরেন্স’-এর দফতরে গিয়ে এই সম্পত্তি হস্তান্তরের আইনি রেজিস্ট্রি পর্ব সম্পন্ন হয়। রেজিস্ট্রেশন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওই চার শরিকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ট্রান্সফার করে দেয় তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর।

এই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে রাজ্য প্রশাসন দেখিয়েছে নজিরবিহীন তৎপরতা। গত ৩ জুন রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে জিরাটের এই বাড়ি কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরপর ২৯ জুন হুগলির স্পেশাল ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন অফিসার জেলার ‘ডাইরেক্ট ল্যান্ড পারচেজ কমিটি’র সাথে বিশেষ বৈঠক সারেন। আর সেই বৈঠকের মাত্র তিন দিনের মাথাতেই বাড়ি কেনার সমস্ত আইনি জটিলতা কাটিয়ে ক্রয় পর্ব শেষ করা হয়। স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী সুমনা সরকার এই পদক্ষেপের প্রশংসা করে জানিয়েছেন, অমিত শাহজি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা আজ সত্যি হলো।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ও ইতিহাসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে ৬ জুলাই তাঁর জন্মদিনে ইতিমধ্যেই ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে বাজেটে বিশেষ ২০০ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে। ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই টাকায় পুরনো পৈতৃক বাড়িটির আমূল সংস্কার করা হবে এবং সেখানে একটি আধুনিক গ্রন্থাগার, সংগ্রহশালা ও দৃষ্টিনন্দন পার্ক গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি জিরাটে একটি সর্বাধুনিক অডিটোরিয়াম এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের একটি বিশালাকার ১২৫ ফুট উঁচু মূর্তি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের উদ্যোগে এতদিন সেখানে একটি ছোট মূর্তি থাকলেও, এখন কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে বিশাল সংগ্রহশালা তৈরির কাজ শুরু হওয়ায় পুরো জিরাট এলাকা জুড়ে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে।

Related Articles