কালীপুজো ঘিরে প্রস্তুতির আমেজে ‘পঞ্চমুন্ডি আসন আশ্রম’, এর অলৌকিক ইতিহাস জানেন?
নয়ন কুইরী, ঝালদা: পুরনো ঝালদা গ্রামের ঘন জঙ্গলের মধ্যে রহস্যে ঘেরা এক স্থানে অবস্থিত পঞ্চমুন্ডি আসন আশ্রম। প্রকৃতির নীরবতার মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা এই আশ্রম এখন কালীপুজোর প্রস্তুতিতে মুখর। আশ্রমের এক কোণে অবস্থিত পঞ্চমুন্ডি আসন মন্দিরে চলছে দেবী কালীপুজোর তোড়জোড়। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই মন্দির অত্যন্ত জাগ্রত ও অলৌকিক শক্তির অধিষ্ঠান। এর এক অলৌকিক ইতিহাস রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ পাহাড়ে কেন্দ্রের প্রতিনিধি নিয়োগ! প্রধানমন্ত্রীকে প্রতিবাদপত্র মুখ্যমন্ত্রীর
এ বিষয়ে ঝালদা রাজপরিবারের সদস্য সঞ্জীব সিং দেও জানিয়েছেন, “এই মন্দিরই ভারতের প্রথম পঞ্চমুন্ডি আসন। বর্তমানে দেশে মাত্র পাঁচটি পঞ্চমুন্ডি আসন বিদ্যমান, যার মধ্যে ঝালদার এই মন্দির অন্যতম প্রাচীন।” তাঁর কথায়, প্রায় দেড়শো বছর আগে স্বামী শ্রী শ্রী বিশুদ্ধানন্দ পরমহংস জীর অলৌকিক শক্তিতে মুগ্ধ হয়ে তৎকালীন রাজা উদ্ধবনারায়ণ সিং দেও তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন।
লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/truthofbengal
পরবর্তী সময়ে রাজা উদ্ধবনারায়ণ সিং দেও-র বড় ছেলে রাজা অনন্তনারায়ণ সিং দেও, স্বামীজীর বড় ছেলে শ্রী দুর্গাদাস চট্টোপাধ্যায়ের শিষ্য হয়ে মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ১৯৩৮ সালের বাংলা ৫ই কার্তিক, কালীপুজোর দিন থেকেই শুরু হয় নিয়মিত পুজো। সেই ঐতিহ্য আজও অটুট।

প্রতিদিন নিত্যপুজো হলেও কালীপুজোর সময় আশ্রম ও আশপাশের গ্রামে তৈরি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ। ভোর থেকে শুরু হয় প্রস্তুতি, সেজে ওঠে মন্দির চত্বর। রাজপরিবারের সদস্য ও আশ্রমের সেবায়েতদের পাশাপাশি গ্রামের মানুষও অংশগ্রহণ করেন পুজোর যাবতীয় কাজে। স্থানীয় বাসিন্দা কেদার পান্ডে ও ঠাকুরদাস কুইরি বলেন, “এই পুজো আমাদের গ্রামের প্রাণ। আমরা সবাই মিলে শ্রম ও অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করি। কালীপুজোর দিন গ্রামে এক পবিত্র পরিবেশ তৈরি হয়।”
দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিক আবহ ও ভক্তির মেলবন্ধনে পঞ্চমুন্ডি আসন আজও পুরুলিয়া জেলার এক গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। প্রতি বছর কালীপুজোর সময় দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন আশীর্বাদ নিতে। অরণ্যের নীরবতার মাঝে ধূপ-ধুনোর গন্ধে, শঙ্খধ্বনিতে ও মাতৃমন্ত্রে মুখর হয়ে ওঠে পঞ্চমুন্ডি আসন—যেন শক্তির অলৌকিক আবির্ভাব ঘটে এখানে।






