“মাথাপিছু আয়ে পিছিয়ে কেন বাংলা?”, নববর্ষের দিনেই ‘রিপোর্ট কার্ড’ হাতে রাজ্যপালের তোপ, পালটা মমতার
পয়লা বৈশাখেই সৌজন্যের ইতি! নবান্ন বনাম রাজভবনের লড়াইয়ে এবার কি নয়া মোড়?
Truth of Bengal: পয়লা বৈশাখের পুণ্যলগ্নেই নজিরবিহীন সংঘাতের সাক্ষী থাকল বাংলা। রাজ্যের তলানিতে ঠেকে যাওয়া অর্থনীতি আর ‘হারানো গৌরব’ নিয়ে রাজভবন থেকে রাজ্যপাল আরএন রবির করা মন্তব্য ঘিরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল রাজনীতি। রাজ্যপালের এই ‘রিপোর্ট কার্ড’ পেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উত্তর দিনাজপুরের সভা থেকে পালটা তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নববর্ষের শুরুতেই লোক ভবন বনাম নবান্নের এই ‘যুদ্ধ’ রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
বুধবার রাজভবনে নববর্ষের অনুষ্ঠানে রাজ্যের তরুণ প্রজন্মকে পরিবর্তনের ডাক দেন রাজ্যপাল। পশ্চিমবঙ্গের অতীতের সমৃদ্ধি ও বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টেনে তিনি বলেন, “ছয়ের দশকে দেশের জিডিপির ১০ শতাংশ আসত এই বাংলা থেকে। আজ জাতীয় পুঁজিতে আমাদের ভাগ কমে ৫ শতাংশে ঠেকেছে। যে রাজ্য দেশকে পথ দেখাত, আজ কেন সে পিছিয়ে? পশ্চিমবঙ্গকে আবার প্রগতির সঙ্গী হতে হবে।” মাথা পিছু আয়ের নিরিখে বাংলা এখন ১৫টি রাজ্যের পিছনে রয়েছে বলেও পরিসংখ্যান তুলে ধরেন তিনি। তাঁর সরাসরি আহ্বান, “পরিবর্তনের অংশ হওয়ার প্রতিজ্ঞা করুন। এই পরিবর্তন আকাশ থেকে পড়বে না, আমাদেরই আনতে হবে।”
রাজ্যপালের এই ‘পরিবর্তন’-এর ডাককে ভাল চোখে দেখেনি রাজ্যের শাসকদল। উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের জনসভা থেকে নাম না করে পালটা ধুয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফ কথা, “বাংলার লাটসাহেব, যিনি সবচেয়ে বড় বাড়িতে থাকেন, আজ তিনি নববর্ষে অভিনন্দন না জানিয়ে গালি দিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা এখন নির্বাচন কমিশন আর কেন্দ্রের হাতে, আর আপনারা বলছেন বাংলায় অশান্তি হচ্ছে?” মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ভোটের সময় পরিকল্পিতভাবে রাজ্যকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছেন রাজ্যপাল।
উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রাজ্যপাল আরএন রবির সঙ্গে রাজ্য সরকারের সুসম্পর্কই বজায় ছিল। তবে বছরের প্রথম দিনেই রাজ্যের শিক্ষা, ক্ষুদ্র শিল্প এবং মাথাপিছু আয় নিয়ে রাজ্যপাল যেভাবে তথ্য-পরিসংখ্যান সাজিয়ে নবান্নকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন, তাতে সেই সৌজন্যের পরিবেশ কার্যত উধাও। ‘মা দুর্গার মাটি’র হারানো সম্মান ফেরানোর লড়াইয়ে রাজ্যপালের এই কড়া সুর এবং তার জবাবে মুখ্যমন্ত্রীর ঝাঁঝালো আক্রমণ, সব মিলিয়ে নববর্ষের শুরুতেই বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন সংঘাতের অধ্যায় শুরু হল।






