রাজ্যের খবর

ভাঙ্গড়ে তৃণমূলের ঘরে সিঁধ! বাবার পর এবার নওশাদের পতাকা ধরলেন আরাবুল-পুত্র

আইএসএফ-এ যোগ দিয়েই হুঙ্কার হাকিমুলের, সভাশেষে সংঘর্ষে তপ্ত ভাঙড়

গোপাল শীল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভাঙ্গড়ের রাজনৈতিক সমীকরণে ফের বড়সড় ধামাকা! বাবা আরাবুল ইসলামের পথ অনুসরণ করে এবার ঘাসফুল শিবির ত্যাগ করলেন ছেলে হাকিমুল ইসলামও। বুধবার সন্ধ্যায় ভাঙ্গড়ের কাশিপুরে নওশাদ সিদ্দিকীর উপস্থিতিতে কয়েক হাজার মানুষের সামনে আইএসএফ-এর পতাকা হাতে তুলে নিলেন জেলা পরিষদের এই হেভিওয়েট সদস্য। ভোটের ঠিক মুখে আরাবুল-পুত্রর এই দলবদল দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

বুধবার কাশিপুরের শেষমোড় এলাকায় আইএসএফ-এর একটি জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই নওশাদ সিদ্দিকী ও ক্যানিং পূর্বের আইএসএফ প্রার্থী আরাবুল ইসলামের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে দলবদল করেন হাকিমুল। এলাকায় যুব সমাজের মধ্যে হাকিমুলের যথেষ্ট জনপ্রিয়তা রয়েছে, ফলে তাঁর এই যোগদান আইএসএফ-এর সাংগঠনিক শক্তিকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পতাকা হাতে নিয়ে হাকিমুল জানান, “অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতেই এই সিদ্ধান্ত। ভাঙ্গড়ের মানুষের অধিকার ছিনিয়ে নিতেই নওশাদ ভাই ও বাবার লড়াইয়ে সামিল হলাম।”

এদিকে, দলবদল ও জনসভাকে কেন্দ্র করে বুধবার রাতে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় কাশিপুর। অভিযোগ, আইএসএফ-এর সভা শেষ হওয়ার পর ফেরার পথে কর্মীদের লক্ষ্য করে অকথ্য গালিগালাজ ও কটূক্তি করতে শুরু করে স্থানীয় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় উত্তর কাশিপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অবশ্য এই দলবদলকে গুরুত্ব দিতে নারাজ নেতৃত্ব। তবে ভোটের আগে ভাঙ্গড়ের ‘তাজা নেতা’র পরিবারের এই ভোলবদল ক্যানিং পূর্ব এবং ভাঙ্গড় বিধানসভা এলাকায় ভোটের অংকের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। অশান্তি এড়াতে গোটা এলাকায় টহল দিচ্ছে পুলিশ ও আধা সেনা।

Related Articles