বিনোদন

‘কীভাবে আগামী দিনগুলো কাটাব?’ স্ত্রীর প্রয়াণে শোকাহত গৌতম ঘোষ, শোকপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর

১৯৭৮ থেকে একসঙ্গে পথচলার জার্নি শুরু হয়েছিল। এতটা পথ চলার পর আচমকা সব শেষ।

Truth Of Bengal: শনিবার ঘোষ পরিবারের ওপর নেমে এল অন্ধকার। ৭০ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন নীলাঞ্জনা ঘোষ। স্ত্রী-এর মৃত্যুতে স্বাভাবিকভাবে ভেঙে পরেছেন পরিচালক গৌতম ঘোষ। দুঃখের মাঝেও সাংবাদিকদের ফিরিয়ে দেননি শোকাহত পরিচালক গৌতম ঘোষ। তাঁর কথায় স্পষ্ট যে তিনি কতোটা ভালবাসতেন স্ত্রী-কে।

একপ্রকার অসহায়ভাবে জাতীয় পুরস্কার জয়ী পরিচালক বলেন, ‘আমি ওঁর উপর প্রচণ্ড নির্ভরশীল ছিলাম। আমাকে পুরো কাঙাল করে দিয়ে চলে গেল। জানি না কীভাবে আগামী দিনগুলো কাটাব? ১৯৭৮ থেকে একসঙ্গে পথচলার জার্নি শুরু হয়েছিল। এতটা পথ চলার পর আচমকা সব শেষ।’

গৌতম ঘোষ আরও বলেন, ‘শুক্রবার রাতে হঠাৎ করেই এই ঘটনাটা ঘটে গেল। কোনওরকম অসুস্থতাও ছিল না। সকাল থেকে অন্যদিনের মতোই স্বাভাবিক কাজকর্মই করছিল। সারাদিন তো প্রচুর কাজের মধ্যে ব্যস্ত থাকত। কাঁথাশিল্পের কাজ করত, তাই মহিলা কর্মীদের সঙ্গে দুপুরেও কাজ করেছে। বিকেলের পর ওঁর বুকে ব্যথা শুরু হয়, শরীরে ঘাম হয়। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালেও নিয়ে যাই। কিন্তু, ওঁর সমস্যাটা ছিল আভ্যন্তরিন। অ্যানিওরিজম দেখা যায়। এর ফলে শরীরের ভিতরেই রক্তক্ষরণ হতে থাকে।’

নীলাঞ্জনার আকস্মিক প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সুখ হোক বা দুঃখ যেকোন পরিস্থিতিতে টলি পাড়ার পাশে থাকেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ঘটনার খবর পাওয়ার পর আবেগপ্রবণ হয়ে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, ‘আমার প্রিয় নীলাঞ্জনা ঘোষের মৃত্যুতে আমি শোকগ্রস্ত বোধ করছি। আমার বৌদি, বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষের স্ত্রী, তিনি একটি কঠিন অস্ত্রোপচারের পর আজ সকালে প্রয়াত হন।’

তিনি নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা যোগ করে আরও বলেন, ‘তাঁর সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল এবং আমি বিচলিত বোধ করছি। তিনি অনেক সামাজিক কাজ করতেন। আমরা জানতাম, তাঁর হাতের কাঁথাশিল্পের কাজ ছিল সুন্দর। সেসব কথা মনে পড়ছে। গৌতমদাকে সান্ত্বনা জানানোর কোন ভাষা আমার জানা নেই। তবু তাঁকে মন শান্ত রেখে তাঁর কাজ চালিয়ে যেতে অনুরোধ করব। বৌদির কথা মনে রেখেই এই কাজ তাঁকে করতে হবে।’

Related Articles