পাহাড়ে কেন্দ্রের প্রতিনিধি নিয়োগ! প্রধানমন্ত্রীকে প্রতিবাদপত্র মুখ্যমন্ত্রীর
শিশুটি মারা গেছে ভেবে তার মা অজ্ঞান হয়ে পড়েন, পরিবার আতঙ্কিত হয়ে পড়ে ও আশেপাশের উৎকণ্ঠিত যাত্রীরা চলে আসেন ওই কামরায়।
Truth Of Bengal: প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গ। দুর্গতদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্র ১পয়সাও দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।এরমধ্যেই সংবিধানের নিয়ম না মেনেই দার্জিলিং, তরাই, ডুয়ার্সের জন্য মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের গুরুতর অভিযোগ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। যু্ক্তরাষ্ট্রীয় ধর্ম অনুসারে কেন্দ্রের উচিত রাজ্য সরকারকে জানিয়েই পাহাড়ে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করা।
কেন্দ্রের সরকার সেই রীতি ভঙ্গ করছে বলে সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করেই পাহাড়ে সমাধানের লক্ষ্যে এই কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয়েছে বলে বাংলার সরকার মনে করছে। যেখানে জিটিএ বা গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন হল সাংবিধানিক সংস্থা,সেখানে সেই সংস্থাকে মর্যাদা দেওয়া প্রয়োজন।কেন্দ্রের বিজেপি সরকার কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি পাঠিয়ে রাজ্যের অধিকার খর্ব করছে বলে মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি অবাক ও মর্মাহত, পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং পাহাড়, তরাই এবং ডুয়ার্স অঞ্চলের গোর্খাদের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলির জন্য ভারত সরকার একতরফাভাবে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করেছে। দেশের প্রাক্তন উপজাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা তথা অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার পঙ্কজকুমার সিংকে একজন মধ্যস্থতাকারীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার দৃঢ়ভাবে মনে করে, গোর্খা সম্প্রদায় বা জিটিএ সংক্রান্ত যে কোনও উদ্যোগ অবশ্যই রাজ্যে পরামর্শ ও পূর্ণ সমর্থনের মাধ্যমে গ্রহণ করা উচিত। যাতে দীর্ঘ প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত এলাকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা অটুট থাকে। এই ধরনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আঘাত।”
সেই সঙ্গে লেখা রয়েছে, “আপনার নিশ্চয় মনে আছে, ২০১১-র ১৮ জুলাই ত্রিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে জিটিএ তৈরি করা হয়। জিটিএ তৈরি করা হয়েছিল পাহাড়ের গোর্খা সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সামাজিক আর্থিক,পরিকাঠামোগত, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত উন্নয়নের স্বার্থে। এই সংবেদনশীল বিষয়ে একতরফা কোনও পদক্ষেপ শৈলশহরের শান্তি ও সম্প্রীতির পক্ষে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পূর্বপরামর্শ ও যথাযথ আলোচনার বাইরে গিয়ে যে নিয়োগপত্রটি জারি করা হয়েছে, আমি অনুরোধ করছি তা আরও একবার বিবেচনা করে প্রত্যাহার করা হোক। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে প্রকৃত সহমর্মিতা ও যুক্তরাষ্ট্রীয় স্বার্থে এই পদক্ষেপই প্রত্যাশিত।” রাজ্যের দাবিকে মান্যতা দিয়ে কেন্দ্র এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে কিনা তাই দেখার বিষয়।






