খেজুরিতে জোড়া মৃত্যু কাণ্ড: তদন্তকারীদের ভূমিকায় প্রশ্ন আদালতের
Truth Of Bengal: পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিতে দুই বাসিন্দার মৃত্যুর তদন্ত মামলায় তদন্তকারী আধিকারিকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল আদালত। মৃতদেহের ময়নাতদন্তের সময় একাধিকবার ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসককে ফোন করেছিলেন ইনভেস্টিগেটিং অফিসার বলে অভিযোগ। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে আইও-র ফোন কল রেকর্ড করে সোমবার রিপোর্ট জমা দেয় পুলিশ। সেই রিপোর্টকে সামনে রেখেই প্রশ্ন তুলল আদালত।
খেজুরির ঘটনায় তদন্তকারী আধিকারিকের ফোন কল রেকর্ড করার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। সোমবার আদালতে জমা দেওয়া সেই রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে, মৃতদেহের ময়নাতদন্তের আগে এবং পরে একাধিকবার ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসককে ফোন করেছিলেন আইও। পুলিশের এই রিপোর্টে বিস্মিত হন বিচারপতিরা। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এক্ষেত্রে তদন্তকারী অফিসারের ভূমিকা সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। বিচারপতিদের প্রশ্ন, কী কারণে এতবার ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসককে ফোন করেছিলেন আইও? যদিও পুলিশের এই রিপোর্টের বিরোধিতা করেছে সিআইডি। সিআইডি-র দাবি, উভয়ের মোবাইলের কললিস্ট পরীক্ষা করে কোনও সন্দেহজনক কথোপকথন পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জুলাই মাসে পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিতে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় চন্দ্র পাইক ও সুজিত দাস নামে দুই ব্যক্তির। তাঁরা বিজেপি কর্মী বলে দাবি করা হয় স্থানীয় গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, তাঁদের দুই কর্মীকে পরিকল্পনামাফিক খুন করা হয়েছে।দেহ দু’টির ময়নাতদন্ত করানো হয় তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
সেই সময়ইপোস্টমর্টেম করেছিলেন যে চিকিৎসক, তাঁর সঙ্গে এই মামলার তদন্তকারী অফিসারের মধ্যে কথোপকথন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিল পুলিশ। এর পর কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তাঁদের মধ্যে ফোন কলের বিস্তারিত পরীক্ষা করা হয়। সোমবার সেই রিপোর্ট জমা পড়ে বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি শব্বর রশিদির বেঞ্চে। সেই রিপোর্টেই উল্লেখ করা হয়েছে, ময়নাতদন্তের আগে এবং পরে বেশ কয়েকবার ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসককে ফোন করেছিলেন তদন্তকারী অফিসার। তাতেই বিচারপতিদের প্রশ্ন, ফোন করার কারণ কী ছিল?
যদিও আদালতেপুলিশের এই রিপোর্টের উলটো কথাই জানিয়েছেনসিআইডি-র তদন্তকারীরা। মোবাইলের কললিস্ট আদালতে পেশ করে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তাতে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। একই বক্তব্য রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলেরও। এর প্রেক্ষিতেই বিচারপতি দেবাংশু বসাক প্রশ্ন করেন, কোন যুক্তিতে এই কথা বলা হচ্ছে? কোনও তথ্যপ্রমাণ আছে কিনা, তাও জানতে চান বিচারপতি।অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও তথ্য নেই। আদালত এর পর নির্দেশ দেয়,সমস্ত বিস্তারিত তথ্য সোমবারের মধ্যে জমা দিতে হবে। সেদিনই পরবর্তী শুনানি।






