দেশ

জমায়েতে ছাত্রদের না যাওয়ার নির্দেশ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে তীব্র আক্রমণ রাহুলের

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যন্তর মন্তরে আইনবহির্ভূত জমায়েত বা বিক্ষোভে অংশ নিলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

Truth of Bengal: দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান বিক্ষোভে অংশ না নিতে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ও জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের জারি করা নির্দেশিকা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি এই নির্দেশিকার তীব্র সমালোচনা করে দাবি করেছেন, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে চাওয়া শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানোর কোনও অধিকার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নেই। তাঁর অভিযোগ, ছাত্রদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এর জন্য সংশ্লিষ্টদের একদিন জবাবদিহি করতে হবে।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যন্তর মন্তরে আইনবহির্ভূত জমায়েত বা বিক্ষোভে অংশ নিলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, পড়াশোনা এবং ভবিষ্যৎ পেশাগত জীবনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়। ভুয়ো ও বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

এর কিছুক্ষণ পর একই ধরনের নির্দেশিকা প্রকাশ করে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে যন্তর মন্তরের আশপাশে কোনও জমায়েতে অংশ না নেওয়ার অনুরোধ করা হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়ে জানানো হয়, নিয়ম ভঙ্গ করলে আইনি ব্যবস্থা বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলির এই অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন বিভিন্ন মহলের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অভিনেত্রী পূজা ভাট বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে তাঁদের মতপ্রকাশের অধিকার খর্ব করা উচিত নয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরার স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ও কংগ্রেস সাংসদ দীপেন্দর হুডাও নির্দেশিকার সমালোচনা করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, কোন আদালতের নির্দেশের ভিত্তিতে যন্তর মন্তরের সব ধরনের জমায়েতকে বেআইনি বলা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগও তোলেন তিনি।

এর আগে আইআইটি রুরকিও শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীদের রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশ না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। পরে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এটি নতুন কোনও নির্দেশ নয়, বরং প্রতি শিক্ষাবর্ষের শুরুতে প্রচলিত আচরণবিধির অংশ হিসাবে জারি করা নিয়মিত পরামর্শ। অন্যদিকে আইআইটি মাদ্রাজের এক শিক্ষার্থীর দাবি, বিক্ষোভের সমর্থনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা পোস্ট সরিয়ে ফেলতে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

Related Articles