কলকাতা

“নোটিস ছাড়াই তলব, জোর করে বয়ান” — পুলিশি হেনস্তার অভিযোগ অভিষেকের

সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে তিনি দাবি করেন, গত দু’সপ্তাহ ধরে তাঁকে এবং তাঁর সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তিকে কোনও নোটিস ছাড়াই তলব করা হচ্ছে।

Truth of Bengal: তাঁর ঘনিষ্ঠ ও দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ইচ্ছাকৃতভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুললেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে তিনি দাবি করেন, গত দু’সপ্তাহ ধরে তাঁকে এবং তাঁর সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তিকে কোনও নোটিস ছাড়াই তলব করা হচ্ছে। এমনকী কয়েকজনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অভিষেকের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের নামে এসটিএফ ও সিআইডি আইনি সুরক্ষার মৌলিক নিয়ম লঙ্ঘন করছে। শুধু নোটিস ছাড়া তলবই নয়, তাঁর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভয় দেখিয়ে এবং চাপ দিয়ে মিথ্যা বয়ান রেকর্ড করানোর চেষ্টা চলছে।

সমাজমাধ্যমে অভিষেক লেখেন, গত দু’সপ্তাহে অন্তত ২৫ জন এমন পুলিশি হেনস্তার শিকার হয়েছেন, যাঁরা কোনও না কোনওভাবে তাঁর সঙ্গে বা তাঁর দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর আরও অভিযোগ, মিথ্যা বয়ান আদায়ের জন্য ওই ব্যক্তিদের ফোনে আড়ি পাতা হচ্ছে। এমনকী তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং শিশুদেরও হেনস্তা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও কটাক্ষ করেন অভিষেক। তিনি লেখেন, “আপনারা যা পারেন করুন। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা পর্যন্ত আমি মাথা নত করব না।” তাঁর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাঁকে এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের লক্ষ্য করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, নির্বাচনে ভরাডুবির পর একাধিক মামলার তদন্তে নাম জড়িয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ইডি ও সিআইডি-র মতো সংস্থার দপ্তরে তাঁর যাতায়াতও বেড়েছে। পুলিশের নজরে রয়েছেন তাঁর আপ্তসহায়কও। পাশাপাশি কলকাতা পুরসভার তরফে তাঁর কালীঘাট রোড ও হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িতে নোটিস পাঠানো হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সমাজমাধ্যমে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন অভিষেক। যদিও প্রশাসনের দাবি, তাঁর তোলা অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন। তদন্ত আইন মেনেই চলছে এবং কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে না বলেই দাবি প্রশাসনিক মহলের।

Related Articles