দুই ছেলের পর এবার স্ত্রী! ইডি দপ্তরে হাজিরা মদন-জায়া অর্চনার
বুধবার ও বৃহস্পতিবার তাঁর দুই ছেলের জিজ্ঞাসাবাদের পর শুক্রবার সকাল ১১টা নাগাদ ছোট ছেলে শুভরূপ মিত্রকে সঙ্গে নিয়ে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছন তিনি
Truth of Bengal: পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দপ্তরে হাজির হলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের স্ত্রী অর্চনা মিত্র। বুধবার ও বৃহস্পতিবার তাঁর দুই ছেলের জিজ্ঞাসাবাদের পর শুক্রবার সকাল ১১টা নাগাদ ছোট ছেলে শুভরূপ মিত্রকে সঙ্গে নিয়ে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছন তিনি। ইডি দপ্তরে প্রবেশের সময় সাংবাদিকেরা একাধিক প্রশ্ন করলেও কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি অর্চনা। নীরবে লিফটে উঠে তদন্তকারীদের দপ্তরের দিকে চলে যান তিনি। মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত যে সমস্ত নথিপত্র তাঁকে আনতে বলা হয়েছিল, সেগুলি এদিন ইডি আধিকারিকেরা পরীক্ষা করতে পারেন বলে সূত্রের খবর।
কয়েক দিন আগেই পুর নিয়োগ মামলায় মদন মিত্রের স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নোটিস পাঠিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেই অনুযায়ী বুধবার প্রথমে হাজিরা দেন ছোট ছেলে শুভরূপ। তাঁকে প্রায় ন’ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। পরদিন বৃহস্পতিবার ইডির মুখোমুখি হন বড় ছেলে স্বরূপ মিত্র। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে স্বরূপ জানিয়েছিলেন, শুক্রবার তাঁর মা অর্চনা মিত্রও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সিজিও কমপ্লেক্সে যাবেন। সেই মতো এদিন ছোট ছেলেকে সঙ্গে নিয়েই ইডি দপ্তরে হাজির হন তিনি। পরিবারের সদস্যদের তলবের মধ্যেই সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছেন মদন মিত্র। রাজনৈতিক শিবির বদলের সঙ্গে ইডির নোটিসের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হলেও মদন সেই জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছিলেন।
তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে মদন জানিয়েছিলেন, তিনি বা তাঁর পরিবারের কেউ হাজিরা এড়াবেন না। সেই সময় তিনি মন্তব্য করেন, ইডির তুলনায় ‘এবি’, অর্থাৎ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি বেশি ভয় পান। তাঁর ওই বক্তব্য ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে শোরগোল তৈরি হয়েছিল। ইডির দাবি, টিটাগড় পুরসভায় মোটা অঙ্কের টাকা অথবা অন্য সুবিধার বিনিময়ে অন্তত ১২৫ জনকে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। সেই নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেনের তদন্ত করতে গিয়েই মদন মিত্রের নাম সামনে আসে বলে কেন্দ্রীয় সংস্থা সূত্রে খবর। এর আগে মদনের বাড়ি, অফিস এবং তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। তাঁকেও প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, আর্থিক লেনদেন এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখতে তাঁদের তলব করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নিয়োগের বিনিময়ে কোনও বেআইনি আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না, সেই বিষয়টিই মূলত যাচাই করছেন তদন্তকারীরা। তবে ইডির অভিযোগগুলি এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি।






