দেশ

একুশের সমাবেশের পরেই ধামাকা! ‘আরশোলা’দের সমর্থনে সোমবারই দিল্লি যাচ্ছেন মমতা

নিট কান্ডে এবার সরাসরি ময়দানে তৃণমূলনেত্রী! যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়াতে বড় পদক্ষেপ

Truth of Bengal: ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হতে চলেছে স্রেফ সাতদিনের মধ্যেই। নিট (NEET) কেলেঙ্কারি ও শিক্ষাক্ষেত্রে লাগামহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে দিল্লির যন্তর মন্তরে লড়াই চালিয়ে যাওয়া অরাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’কে সরাসরি সমর্থন জানাতে আগামী সোমবারই রাজধানী দিল্লি সফরে যাচ্ছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার দলীয় সূত্রে এই হাই-ভোল্টেজ খবর প্রকাশ্যে আসতেই জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

গত মঙ্গলবার ধর্মতলার একুশে জুলাইয়ের মেগা মঞ্চ থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম ও ছাত্রসমাজকে বাঁচাতে প্রয়োজনে তিনি নিজেই দিল্লি গিয়ে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আন্দোলনে সশরীরে সামিল হবেন। সেই কথা রেখেই আগামী সোমবার তিনি দিল্লি গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করবেন এবং তাঁদের ন্যায্য লড়াইয়ের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাবেন। তবে তৃণমূলনেত্রী সেখানে আন্দোলনকারীদের পাশে কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন নাকি নিজেও ধর্নায় বসবেন, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ও শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের বিরুদ্ধে কোনও রাজনৈতিক দলের ব্যানার ছাড়াই বিগত বিশ দিন ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে পড়ুয়াদের এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। শুরুতে লাদাখের বিখ্যাত শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক তাঁদের এই লড়াইয়ের দিশা দেখিয়েছিলেন। টানা ২৬ দিন আমরণ অনশনের পর গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গুরুগ্রামের এক হাসপাতালে গিয়ে সোনমকে স্যুপ খাইয়ে অনশন ভাঙান দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিং। সরকারের কাছ থেকে লিখিত ও একাধিক ইতিবাচক শর্ত পাওয়ার পরেই অনশন তুলে নেন সোনম।

এদিকে সোনম ওয়াংচুক অনশন ভাঙলেও রাজপথ ছাড়েনি ককরোচ জনতা পার্টি। শুক্রবার সংগঠনের দুজন প্রতিনিধি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে দেখা করে নিজেদের যাবতীয় দাবিদাওয়া সংবলিত স্মারকলিপি তুলে দেন। নিট কাণ্ডের নৈতিক দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা নিশ্চিত করতে সরকারকে নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন তাঁরা। ঠিক এই তপ্ত আবহে সোমবার মমতার দিল্লি সফর আন্দোলনকারীদের বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে বলে মনে করছে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মহল।

Related Articles