গঙ্গাসাগর মেলায় প্রথমবার ‘ওয়াটার ড্রোন’, পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি
ড্রোনের কার্যক্ষমতার পরিধি (রেঞ্জ) প্রায় এক কিলোমিটার। ফলে বিপদগ্রস্ত মানুষের কাছে এটি মুহূর্তের মধ্যে পৌঁছে যেতে পারবে।
Truth Of Bengal: হাতে গোনা আর মাত্র কয়েক দিন, তার পরেই শুরু হতে চলেছে ঐতিহ্যের গঙ্গাসাগর মেলা। আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে মেলা শুরু হতে চলায় এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তুঙ্গে। এ বছর মেলায় আগত পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও জলপথে দুর্ঘটনা রুখতে এক অভিনব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন। মেলায় এই প্রথম নামানো হচ্ছে অত্যাধুনিক ‘ওয়াটার ড্রোন’।
প্রশাসন সূত্রে খবর, সমুদ্রে স্নান করতে নেমে কোনও পুণ্যার্থী বিপদে পড়লে বা তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে এই ড্রোন রক্ষাকর্তার ভূমিকা পালন করবে। জিপিএস (GPS) নেভিগেশন সিস্টেম যুক্ত এই ড্রোনটি জলের ওপর দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ৭ মিটার গতিবেগে ছুটতে সক্ষম। যা একজন দক্ষ সাঁতারুর গতির চেয়েও অনেক বেশি। ড্রোনের কার্যক্ষমতার পরিধি (রেঞ্জ) প্রায় এক কিলোমিটার। ফলে বিপদগ্রস্ত মানুষের কাছে এটি মুহূর্তের মধ্যে পৌঁছে যেতে পারবে।
এই ওয়াটার ড্রোনের প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যগুলি রীতিমতো নজরকাড়া:
-
বহন ক্ষমতা: এটি জলে প্রায় ১০০০ কেজি পর্যন্ত ওজন টেনে নিয়ে যেতে পারে, ফলে একসঙ্গে একাধিক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা সম্ভব।
-
স্বয়ংক্রিয় ভারসাম্য: উত্তাল সমুদ্রের ঢেউয়ে ড্রোনটি উল্টে গেলেও মাত্র ২ সেকেন্ডের মধ্যে এটি নিজে থেকেই ফের সোজা হয়ে যেতে পারে।
-
লাইভ ফিড: ড্রোনের রিমোট কন্ট্রোলারে থাকা এইচডি স্ক্রিনে ১০৮০ পিক্সেলের ভিডিও দেখা যায়, যা উদ্ধারকারী দলকে দূর থেকে পরিস্থিতি বুঝতে সাহায্য করবে।
-
নিরাপদ প্রত্যাবর্তন: ব্যাটারি ১৫ শতাংশের নিচে নামলে বা সিগন্যাল বিচ্ছিন্ন হলে ড্রোনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্দিষ্ট স্থানে ফিরে আসবে।
ইতিমধ্যেই এই প্রযুক্তির সফল মহড়া সম্পন্ন করেছে জেলা প্রশাসন। ড্রোনের ব্যবহারের ফলে ভিড়ের মধ্যে সমুদ্রে নজরদারি চালানো এবং আপৎকালীন পরিস্থিতিতে দ্রুত জীবন রক্ষা করা অনেক সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ১০ তারিখ থেকে শুরু হতে চলা এই মেলায় পুণ্যার্থীদের জন্য এই ব্যবস্থা এক বাড়তি নিরাপত্তার আশ্বাস যোগাচ্ছে।






