অসুস্থ শরীরে মেলেনি বিশ্রাম? কাজের চাপে মালদায় মৃত্যু BLO-র! অভিযোগ পরিবারের
চিকিৎসক বিশ্রামের পরামর্শ দিলেও কাজের চাপের কারণে তা সম্ভব হয়নি।
রাজ্যে ফের বুথ স্তরের আধিকারিক (বিএলও)-এর মৃত্যুর ঘটনা! বুধবার ভোরে মালদার ইংরেজবাজার পুরসভার ফুলবাড়ি পাকুরতলা এলাকায় মৃত্যু হয় এক বিএলও-র। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কাজের অতিরিক্ত চাপের জেরেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি।
মৃত বিএলও-র নাম সম্পৃতা চৌধুরী সান্যাল। পাকুরতলা এলাকার বাসিন্দা সম্পৃতা পেশায় একজন আশাকর্মী ছিলেন। পাশাপাশি ইংরেজবাজার পুরসভা এলাকার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ১৬৩ নম্বর বুথে বিএলও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শও নিচ্ছিলেন। বুধবার ভোরে নিজের বাড়িতেই তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃতার স্বামীর দাবি, অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে এসআইআরের কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছিল। এর পাশাপাশি আশাকর্মীর দায়িত্বও সামলাতে হচ্ছিল তাঁকে। শীতের মধ্যে অতিরিক্ত কাজের চাপেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে বলে পরিবারের অভিযোগ। চিকিৎসক বিশ্রামের পরামর্শ দিলেও কাজের চাপের কারণে তা সম্ভব হয়নি।
খবর পেয়ে মৃতার বাড়িতে যান ইংরেজবাজার পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর গায়ত্রী ঘোষ। তিনি বিএলও-র মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশনের উপর দায় চাপিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণেই সম্পৃতা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তার জেরেই এই মৃত্যু হয়েছে।
যদিও এই অভিযোগ মানতে নারাজ বিজেপি। দলের দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘‘যে কোনও মৃত্যুই দুঃখজনক। তবে সব দায় নির্বাচন কমিশনকে চাপিয়ে দিলে হবে না। তৃণমূলের যাঁরা জনপ্রতিনিধি বা নেতৃত্ব আছেন তাঁরাও বিএলও-দের উপর চাপ সৃষ্টি করছেন। ফলে এই সব সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।’’
উল্লেখ্য, এসআইআর পর্বে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত সাত জন বিএলও-র মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর কাজ শুরুর চার দিনের মাথায় প্রথম মৃত্যু হয় পূর্ব বর্ধমানের বিএলও নমিতা হাঁসদারের। তার পর জলপাইগুড়িতে এক বিএলও-র মৃত্যু হয়। অভিযোগ ওঠে, ডুয়ার্সের মাল ব্লকের নিউ গ্লেনকো চা-বাগান এলাকার বাসিন্দা শান্তিমুনি ওঁরাও কাজের চাপে আত্মঘাতী হন। ২১ নভেম্বর নদিয়ার কৃষ্ণনগরে রিঙ্কু তরফদার নামে এক বিএলও আত্মঘাতী হন বলে অভিযোগ, তাঁর দেহের পাশে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মুর্শিদাবাদে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান জাকির হোসেন নামে এক বিএলও। গত ২৮ ডিসেম্বর বাঁকুড়ার রানিবাঁধে হারাধন মণ্ডলের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ গত শনিবার কোচবিহারে আশিস নামে এক বিএলও-র মৃত্যু হয়। তার চার দিনের মধ্যেই মালদহে আরও এক বিএলও-র মৃত্যুর ঘটনায় ফের এসআইআর কাজের চাপ নিয়ে প্রশ্ন উঠল।






