রাজ্যের খবর

Durgapur Case: দুর্গাপুর গণধর্ষণ কাণ্ডে নয়া মোড়! ধৃত সহপাঠীর হস্টেল থেকে উদ্ধার ১১টি অব্যবহৃত কন্ডোম

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া ওই সহপাঠী ছাত্রের হস্টেল রুমে তল্লাশি চালিয়ে ১১টি অব্যবহৃত কন্ডোম উদ্ধার হয়েছে।

Truth of Bengal: পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুরে এক চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণ মামলায় একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসছে। ওড়িশার বাসিন্দা দ্বিতীয় বর্ষের এক মেডিকেল ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে। এই ছয়জনের মধ্যে নির্যাতিতা তরুণীর এক সহপাঠীও রয়েছে, যাকে ঘিরেই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে (Durgapur Case)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া ওই সহপাঠী ছাত্রের হস্টেল রুমে তল্লাশি চালিয়ে ১১টি অব্যবহৃত কন্ডোম উদ্ধার হয়েছে। এছাড়াও, ঘটনাস্থল হিসেবে চিহ্নিত পরাণগঞ্জের জঙ্গল থেকে আরও একটি অব্যবহৃত কন্ডোম উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, অভিযুক্ত সহপাঠী ছাত্রটি একটি কন্ডোম প্যাকেট কিনেছিল, যার মধ্যে একটি জঙ্গল থেকে এবং বাকি ১১টি তার ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই কন্ডোম উদ্ধারের ঘটনাটি মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে নথিভুক্ত করা হচ্ছে, যা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সহপাঠীই ওই ছাত্রীকে জঙ্গলে নিয়ে গিয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর রাতে দ্বিতীয় বর্ষের ওই ছাত্র ও ছাত্রী একসঙ্গে কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে যায়। জানা গেছে, তাদের মধ্যে প্রায় পাঁচ মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই রাতেই পরাণগঞ্জের জঙ্গলে তাদের ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে ফেলে বিজড়া গ্রামের পাঁচ যুবকের মধ্যে তিনজন। পরবর্তীতে আরও দুই যুবক সেখানে পৌঁছায়।

তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা প্রথমে ছাত্র-ছাত্রী দু’জনের কাছ থেকে টাকা দাবি করে। কিন্তু তাদের কাছে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় সহপাঠী যুবক নির্যাতিতাকে ঘটনাস্থলে রেখেই টাকা আনতে যায় বলে অভিযোগ। এই ঘটনাই এখন তদন্তের মূল প্রশ্ন। পুলিশ খতিয়ে দেখছে— সহপাঠী কি স্বেচ্ছায় বান্ধবীকে ফেলে চলে গিয়েছিল, নাকি তার সামনেই তাকে ধর্ষণ করা হয়? যদিও নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী, তাঁকে শুধুমাত্র একজনই ধর্ষণ করেছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জনের মধ্যে সেই মূল অভিযুক্ত কে? পুলিশের দাবি, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং ডিএনএ পরীক্ষার পরই এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জনকেই পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং অভিযুক্ত সহপাঠীসহ সবাইকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার পরিকল্পনা রয়েছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল কল রেকর্ড এবং ফরেনসিক প্রমাণ খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে (Durgapur Case)।

এদিকে, এই ঘটনার পর থেকেই দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। কলেজ চত্বরে বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ছাত্র সমাজ দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন।দুর্গাপুরের এই ঘটনার পাশাপাশি একই সময়ে রাজ্যের আর এক প্রান্তে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরেও এক নাবালিকা ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। মহাষ্টমীর রাতে নবম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে তার প্রেমিক ও তার দুই বন্ধু মিলে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্রেই এই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে (Durgapur Case)।

Related Articles