মাটির নিচে পোঁতা কোটি টাকার ‘সেবাশ্রয়’-এর ওষুধ! ডায়মন্ড হারবারে জেসিবি আসতেই তুলকালাম
জেসিবি দিয়ে মাটি খুঁড়তেই পর্দাফাঁস! ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এর ওষুধ কেলেঙ্কারিতে কাঠগড়ায় তৃণমূল বিধায়ক?
Truth of Bengal: সই জাল-কাণ্ডে সিআইডি (CID) জেরা এবং আইনি রক্ষাকবচ নিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) যখন ইতিমধ্যেই ব্যাকফুটে, ঠিক তখনই তাঁর নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারে ফাটল আরও এক নতুন বোমা। এবার মাটির নিচ থেকে কোটি কোটি টাকার সরকারি ও সামাজিক প্রকল্পের ওষুধ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল ডায়মন্ড হারবারের সরিষার হিঞ্চাবেড়িয়া এলাকায়। সবচেয়ে বড় চমক হলো, উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ ওষুধের প্যাকেটে স্পষ্ট লাগানো রয়েছে খোদ অভিষেকের সাধের ‘সেবাশ্রয়’ (Sebashray) প্রকল্পের লোগো! কেন এই বিপুল মূল্যের জীবনদায়ী ওষুধ মাটির নিচে লুকিয়ে পুঁতে রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। অন্যদিকে, এই ঘটনাকে ‘মেগা স্ক্যাম’ বা বড়ো দুর্নীতি বলে সরব হয়েছে বিজেপি।
জেসিবি চলতেই চোখ কপালে স্থানীয়দের, রাডারে মগরাহাটের বিধায়ক
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সরিষার হিঞ্চেবেড়িয়া এলাকায় একটি ফাঁকা জায়গায় জেসিবি (JCB) মেশিন দিয়ে মাটি খোঁড়ার কাজ চলছিল। কিছুটা মাটি খুঁড়তেই নিচে থরে থরে সাজানো প্লাস্টিক ও ওষুধের কার্টন বেরিয়ে আসে। উদ্ধার হওয়া ওষুধের আনুমানিক বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে দাবি করা হচ্ছে।

এই ঘটনা সামনে আসতেই আসরে নেমেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের সরাসরি অভিযোগের তির মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক শামিম আহমেদের দিকে। বিজেপির দাবি, সাধারণ গরিব মানুষের জন্য আসা কোটি কোটি টাকার ওষুধ সুকৌশলে চুরি করা হয়েছিল। এখন চারদিকে কেন্দ্রীয় সংস্থা ও পুলিশের ধরপাকড় শুরু হতেই সেই পাপ ও দুর্নীতি ঢাকতে তড়িঘড়ি জেসিবি এনে রাতের অন্ধকারে ওষুধগুলি মাটির নিচে পুঁতে দেওয়া হয়েছে। বিজেপির আরও দাবি, উদ্ধার হওয়া বহু ওষুধের এখনও মেয়াদের তারিখ (Expiry Date) পার হয়নি।
‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ নিয়ে বড় প্রশ্ন
উল্লেখ্য, করোনাকালের পর ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একক উদ্যোগে এই লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ৭টি বিধানসভায় ‘সেবাশ্রয়’ শিবির চালু করা হয়েছিল। যেখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সাধারণ মানুষকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের পরামর্শ, প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা এবং দামি দামি ওষুধ দেওয়া হত। পরবর্তীতে এই ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ নিয়ে খোদ অভিষেকও জাতীয় স্তরে বহুবার গর্বপ্রকাশ করেছেন।

এবার সেই স্বপ্নের প্রকল্পেই কোটি টাকার ওষুধ চুরির অভিযোগ ওঠায় তীব্র অস্বস্তিতে শাসকদল। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে সমস্ত দুর্নীতির অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জোড়াফুল শিবিরের দাবি, যে ওষুধগুলি উদ্ধার হয়েছে সেগুলি আসলে মেয়াদ উত্তীর্ণ (Expired) হয়ে গিয়েছিল। তাই নিয়ম মেনেই নষ্ট করার জন্য মাটিতে পোঁতা হয়েছিল। তবে ওষুধগুলি সত্যিই এক্সপায়ার্ড ছিল নাকি দুর্নীতির প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা, তা নিশ্চিত করতে ওষুধের ব্যাচ নম্বর খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগ। সব মিলিয়ে, ছাব্বিশের বাংলায় এই ওষুধ-কাণ্ড যে নতুন করে রাজনীতির পারদ চড়াল, তা বলাই বাহুল্য।






