দেশ

পড়ুয়াদের দিকে গুলি ছোড়ার অনুমতি কে দিয়েছিল? প্রশ্ন তুলে শাহকে চিঠি রাহুলের

রাহুলের অভিযোগ, গত ২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির সময় নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের উপর বলপ্রয়োগ করা হয়।

Truth of Bengal: নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ছাত্র আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে ছররা গুলি চালানোর অভিযোগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কড়া ভাষায় চিঠি লিখলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। চিঠিতে তিনি জানতে চেয়েছেন, ছাত্রদের উপর ছররা গুলি চালানোর নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে দিয়েছিলেন কি না। যদি না দিয়ে থাকেন, তবে সেই নির্দেশ কে দিয়েছিল, তারও জবাব দাবি করেছেন তিনি।

রাহুলের অভিযোগ, গত ২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির সময় নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের উপর বলপ্রয়োগ করা হয়। ছররা গুলিতে বহু ছাত্রছাত্রী আহত হন বলে তাঁর দাবি। এমনকি আহত এক পড়ুয়ার চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিতেও ছররার আঘাতের উল্লেখ রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

যদিও দিল্লি পুলিশ ছররা গুলি চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সিআরপিএফ ইতিমধ্যেই আরপিএফকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

২৫ জুলাই লেখা ওই চিঠিতে রাহুল দাবি করেছেন, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার দাবিতে পড়ুয়ারা রাস্তায় নেমেছিলেন। তাঁদের দাবি শোনার পরিবর্তে নিরাপত্তা বাহিনী তাঁদের উপর হামলা চালিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, শতাধিক আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন। পাশাপাশি মহিলা আন্দোলনকারীদের মারধর এবং তাঁদের শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগও তোলেন তিনি।

চিঠিতে রাহুল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দুটি নির্দিষ্ট প্রশ্ন রেখেছেন। প্রথমত, ছাত্রদের উপর ছররা গুলি চালানোর অনুমতি তিনি দিয়েছিলেন কি না। যদি না দিয়ে থাকেন, তাহলে সেই নির্দেশ কে দিয়েছিল? দ্বিতীয়ত, আন্দোলনের সময় সাধারণ পোশাকে যাঁদের ছাত্রদের লাঠিপেটা করতে দেখা গিয়েছে, তাঁরা কারা? তাঁরা কি পুলিশ, নাকি অন্য কোনও বাহিনীর সদস্য? তাঁদের নিয়োগই বা কে করেছে?

রাহুলের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক দেশে প্রতিবাদকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের বক্তব্য শোনা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর কথায়, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আজ এই ঘটনার জবাব চাইছে।

এর আগে আহত ছাত্র সাহিল লোহছাবকে সঙ্গে নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে হাজির হয়ে রাহুল দাবি করেছিলেন, সরকার ছররা গুলি চালানোর কথা অস্বীকার করলেও আহতের শরীরের ক্ষতই তার প্রমাণ। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের উচিত এই বিষয়ে সত্য প্রকাশ করা।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির কাছে দেশ, ছাত্রছাত্রী এবং যুবসমাজের স্বার্থ যে কোনও রাজনৈতিক পদের চেয়ে বড়। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্র আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে ‘দেশবিরোধী শক্তি’ অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই রাহুলের চিঠি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

 

Related Articles