রাজ্যের খবর

দার্জিলিংয়ের পর এবার সুন্দরবন! বিশ্বমঞ্চে দ্বিতীয় ‘গ্লোবাল ডেস্টিনেশন’ হিসেবে ঘোষণা পর্যটন মন্ত্রীর

কলকাতা থেকে সোজা জলপথে সুন্দরবন! পর্যটকদের জন্য স্পেশাল অ্যাপ ও স্যাটেলাইট ম্যাপ নিয়ে নবান্নের বড় পদক্ষেপ

Truth of Bengal: বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে এবার দার্জিলিংয়ের পাশে সগৌরবে স্থান করে নিতে চলেছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য সুন্দরবন। পাহাড়ের রানি দার্জিলিংয়ের পর রাজ্যের দ্বিতীয় ‘গ্লোবাল ডেস্টিনেশন’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে সুন্দরবন। রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়চকে আন্তর্জাতিক বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পের আমূল পরিবর্তনের বার্তা দিলেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ।

অনুষ্ঠানে পর্যটন মন্ত্রী জানান, ‘ওয়ান স্টেট, ওয়ান ডেস্টিনেশন’ প্রকল্পের অধীনে দার্জিলিংয়ের পরেই দ্বিতীয় বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে মন্দারমণি ও সুন্দরবনের নাম উঠে এসেছিল। তবে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের কথা মাথায় রেখে সুন্দরবনকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সুন্দরবনের সবুজ ম্যানগ্রোভকে মূল ভিত্তি করেই গড়ে তোলা হবে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পর্যটন শিল্প। রাজ্যের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বাড়াতে ব্লু-কার্বন অর্থনীতিকে জোর দেওয়ার কথা বলেন মন্ত্রী।

এই মেগা পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে পর্যটন দফতর, বন দফতর এবং সুন্দরবন উন্নয়ন দফতর যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। কলকাতার সাথে সুন্দরবনের যোগাযোগ আরও দ্রুত ও সুগম করতে সড়কপথের পাশাপাশি জলপথ পরিবহনে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। শুধু গঙ্গাসাগর মেলার দিনগুলোতেই নয়, সারা বছর যাতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিড় বজায় থাকে, তার জন্য গঙ্গাসাগর ও সুন্দরবনের দ্বীপগুলোকে নতুন রূপ দেওয়া হবে। সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা চিহ্নিত করতে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসকদের ‘স্যাটেলাইট ম্যাপ’ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিশেষ সরকারি অ্যাপ ও হেল্পলাইন চালু করা হবে, যেখানে নিবন্ধীকৃত হোটেল ও গাইডদের তালিকা থাকবে।

এদিনের বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবসের আলোচনায় ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণের গুরুত্বও প্রাধান্য পায়। প্রাকৃতির দুর্যোগ, আমফান-ইয়াসের মতো সামুদ্রিক ঝড় থেকে রক্ষা এবং নদীবাঁধ বাঁচাতে ম্যানগ্রোভের ভূমিকা অপরিসীম। তাই যথেচ্ছভাবে ম্যানগ্রোভ কেটে বেআইনি ভেড়ি তৈরির প্রবণতা কঠোর হাতে বন্ধ করার হুশিয়ারি দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে পর্যটন দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী, সুন্দরবন উন্নয়ন দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা এবং সাগর ও ফলতার বিধায়করা উপস্থিত ছিলেন। পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য বেশ কিছু ব্যক্তি ও সংস্থাকে সম্মানিত করা হয়।

Related Articles