মার্কিন মিসাইলে ছিন্নভিন্ন ভারতীয় নাবিকদের শরীর! ওমান উপসাগরে ৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করল দিল্লি
হোয়াইট হাউসকে দিল্লির চরম হুঁশিয়ারি! মার্কিন দূতকে তলব করে মাঝরাতেই যুদ্ধের আবহ সাউথ ব্লকে
Truth of Bengal: আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ও ভয়ঙ্কর রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আবহ তৈরি হল। ওমান উপসাগরে (Gulf of Oman) মার্কিন নৌসেনার একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিখোঁজ হওয়া ৩ জন ভারতীয় নাবিকেরই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার কেন্দ্র সরকারের তরফে এই অত্যন্ত দুঃখজনক ও চাঞ্চল্যকর খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত সাউথ ব্লকের তরফে জানানো হয়েছিল যে, হামলার পর থেকে ওই ৩ ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নিখোঁজ ৩ ডেক ও ইঞ্জিন কর্মী আর বেঁচে নেই। এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা দেশ।
“বাকি একটা লাশের খোঁজ চলছে”, আবেগঘন জাহাজ মন্ত্রী
বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল তাঁর এক্স (টুইটার) হ্যান্ডলে নিহতদের নাম প্রকাশ করে গভীর শোকপ্রকাশ করেন। নিহতরা হলেন, ডেক ক্যাডেট আদিত্য শর্মা, ইঞ্জিন ফিটার শিবানন্দ চৌরাসিয়া এবং চিফ ইঞ্জিনিয়ার পাটনালা সুরেশ। মন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই সমুদ্র থেকে দুজনের নিথর দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, বাকি একজনের দেহের খোঁজে এখনও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। মোদি সরকার নিহতদের পরিবারের পাশে রয়েছে এবং দ্রুত দেহগুলি দেশে ফিরিয়ে আনার সমস্ত কূটনৈতিক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
মাঝসমুদ্রে মার্কিন তাণ্ডব, বরাতজোরে বাঁচলেন ২১ জন
ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার। পালাউয়ের পতাকাবাহী ‘এমটি সেট্টেবেল্লো’ (MT Settebello) নামের একটি তেলবাহী বাণিজ্যতরী যখন ওমান উপসাগর দিয়ে যাচ্ছিল, তখন সেটিকে লক্ষ্য করে একের পর এক শক্তিশালী মিসাইল ছাড়ে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ। মুহূর্তের মধ্যে পুরো জাহাজে দাউদাউ করে আগুন লেগে যায়। জাহাজটিতে মোট ২৮ জন নাবিক ছিলেন, যার মধ্যে ২৪ জনই ভারতীয়। জীবন বাঁচাতে নাবিকরা আপৎকালীন বার্তা পাঠালে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হয় এবং ২১ জন ভারতীয়কে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও বাকি ৩ জন আগুনের গ্রাসে তলিয়ে যান। উল্লেখ্য, এই সপ্তাহের মধ্যেই এটি দ্বিতীয় ঘটনা, যেখানে ভারতীয় নাবিক থাকা জাহাজে সরাসরি বোমাবর্ষণ করল মার্কিন সেনা।
নির্দেশ অমান্য করার শাস্তি! আমেরিকার সাফাইতে ক্ষুব্ধ সাউথ ব্লক
কিন্তু আন্তর্জাতিক জলসীমায় কেন এভাবে শান্তিকামী বাণিজ্যতরীর ওপর হামলা চালাল মার্কিন সেনা? এই নিয়ে মুখ খুলেছে পেন্টাগন। ওয়াশিংটনের দাবি, মার্কিন সেনার স্পষ্ট নির্দেশ ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ওই জাহাজগুলি মার্কিন-বিরোধী দেশ ইরানের বন্দরের দিকে এগোচ্ছিল। সেই কারণেই আত্মরক্ষার্থে ও রণকৌশলগত কারণে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
আমেরিকার এই যুক্তিকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে তীব্র নিন্দা করেছে নতুন দিল্লি। বন্ধু দেশ ভারতের নাগরিকদের ওপর এই মার্কিন বর্বরতা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে সাফ জানানো হয়েছে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অফ মিশন জেসন মিকসকে জরুরি তলব করেছে বিদেশ মন্ত্রক। আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করে ভারতীয়দের হত্যার জবাব চাইছে মোদি সরকার, যার জেরে ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বড় রকমের ফাটল ধরার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

