রাজ্যের খবর

“শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত নন্দীগ্রামের ভোটারই থাকব!”, টোটোয় চড়ে ভোট দিয়ে আবেগে ভাসলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

শান্তিকুঞ্জ থেকে বেরিয়ে টোটো সফর! নন্দনায়কবাড়ে ভোট দিয়ে হাসিরানির সঙ্গে চটজলদি কী কথা বললেন শুভেন্দু?

Truth of Bengal: মঙ্গলবার রাজ্যের দুটি হাইভোল্টেজ বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে চলছে উপনির্বাচন। সকালেই নন্দীগ্রামের নন্দনায়কবাড় বুথে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শান্তিকুঞ্জ থেকে বেরিয়ে কনভয় ছেড়ে সাধারণ মানুষের মতো টোটোতে চেপে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছান তিনি। ভোটদান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আবেগঘন সুর চড়িয়ে শুভেন্দু স্পষ্ট ঘোষণা করেন, “মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত এবং শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা পর্যন্ত আমি নন্দীগ্রামেরই ভোটার থাকব।”

এদিন সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট নাগাদ নন্দনায়কবাড় বুথে ভোট দিয়ে বেরিয়ে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও সংক্ষিপ্ত কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। নন্দীগ্রামের মানুষকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “সাধারণত উপনির্বাচনে ভোটের শতকরা হার কিছুটা কম হয়, তবে নন্দীগ্রামে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। আমি মুখ্যমন্ত্রী হলেও আইনের ঊর্ধ্বে নই। ভোট দেওয়ার পর আমি আমার নির্দিষ্ট স্থানেই থাকব, বুথের ২০০ মিটারের মধ্যে ঘুরব না বা প্রচার করব না। নিয়ম সবার জন্য এক।” তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, বিগত নির্বাচনের ধারা বজায় রেখে এবারও বিজেপির প্রার্থীরা রেকর্ড ব্যবধানে জয়ী হবেন।

বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম, দুটি হেভিওয়েট কেন্দ্র থেকেই বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার পর নিয়মানুযায়ী শুভেন্দুকে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দিতে হয়েছিল। নন্দীগ্রামবাসীদের মনের সেই আক্ষেপ দূর করে এদিন তিনি জানান, ভৌগোলিক কারণ ও রাজনৈতিক হিসাবনিকেশে ভবানীপুর ধরে রাখলেও নন্দীগ্রামের মাটি ও মানুষের সঙ্গে তাঁর আত্মার টান চিরকাল অটুট থাকবে। ভবানীপুর না ছাড়ার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে পরোক্ষে প্রতিপক্ষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধে তিনি বলেন, “ভবানীপুর না ছাড়লে তো আবার নতুন করে একজন সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেয়ে যেতেন!”

অন্যদিকে, রেজিনগরে উপনির্বাচন চলাকালীন পুলিশকে হুমকি দেওয়া ও নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগে নওদার বিধায়ক তথা ‘আজুপ’ নেতা হুমায়ুন কবীরের গ্রেফতারি প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু স্পষ্ট জানান, “আইন সকলের জন্যই সমান। ভোটের দিন বুথ চত্বরে নির্বাচনী বিধি ভেঙে উসকানিমূলক কাজ করলে প্রশাসন তো পদক্ষেপ করবেই। নওদার বিধায়ক আইন ভঙ্গ করেছিলেন, তাই পুলিশ আইন অনুযায়ী তাঁকে গ্রেফতার করেছে।”

Related Articles