খেলা

Squad Rotation: দু’দলের দুর্বোধ্য কিছু বদলের মধ্যে নাটকীয়ভাবে শুরু হল শেষ টেস্ট

সেইসঙ্গে ফর্মে না থাকা শার্দুল-কম্বোজ এবং আহত পন্থর জায়গায় এল ফর্মে না থাকা অন্যরা অর্থাৎ করণ নায়ার, প্রসিদ্ধ এবং জুরেল যথাক্রমে।

যুধাজিৎ মুখোপাধ্যায় (বিসিসিআই কোচ, প্রাক্তন ক্রিকেটার): সাহেবদের সত্যি ব্যাপারই আলাদা।এদের ওয়ার্কলোড ম্যানেজ করার পদ্ধতিও তাই আলাদা লেভেলে। আর নয়তো কি? তেন্ডুলকর- অ্যান্ডারসন  সিরিজের নির্ণয়ক ম্যাচে স্ট্রাইক বোলার স্টোকস- আর্চাররা বিশ্রামে। নভেম্বরএ আসন্ন সিরিজ এর কথা ভেবেই নাকি এদের তরতাজা রাখতে এহেন সিদ্ধান্ত (Squad Rotation)। আর এদিকে ভারতও কম যায় কি করে? সিরিজের সবুজতম পিচে দলের সেরা জোরে বোলার বুমরাহ বিশ্রামে। সেইসঙ্গে ফর্মে না থাকা শার্দুল-কম্বোজ এবং আহত পন্থর জায়গায় এল ফর্মে না থাকা অন্যরা অর্থাৎ করণ নায়ার, প্রসিদ্ধ এবং জুরেল যথাক্রমে।

শেষ ২-৩ বছরে হওয়া প্রথম শ্রেণীর খেলায় এখানে পেসাররা মোট ৬১৭ টি উইকেট তুলেছে যেখানে স্পিনারদের সংগ্রহ মাত্র ৭৯টি। তা সত্ত্বেও ভারত কিন্তু দুই স্পিনার নিয়ে নামলো কুলদীপকে সারা সিরিজে একটা সুযোগও না  দিয়ে। জাদেজা এবং সুন্দর তার প্রধান কারণ কিন্তু তাদের ব্যাটিং দক্ষতা। কিন্তু বিশেষজ্ঞ ব্যাটার হিসেবে দলে থাকা আভিমান্যু  ও সারা সিরিজএ একবার ও সুযোগ পেলো না। সত্যিই গুরু গম্ভীর এবং ক্যাপ্টেন গিলের চিন্তা ভাবনা সাধারণ ক্রিকেট  বোদ্ধার চিন্তা ভাবনার বাইরে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড দলে একদম তরতাজা দীর্ঘদেহিদের আধিক্য। তাই টস জিতে পরিবর্ত ক্যাপ্টেন পোপ যে এই পেস বাহিনী আটকিনসন-ওভারটন- টাঙ দের লেলিয়ে দেবে এতে আশ্চর্য কী? কিন্তু এই পরিবর্তন সত্যিই দরকার ছিল।

টেস্ট প্রতি প্রায় ৩৯২ ওভার গড়ে মোট ১৫৫৭ ওভার বল করা হয়েছে সিরিজএ এবং কোনো অঘটন না ঘটলে ২০০০ ওভার করা হয়ে যাবে পঞ্চম টেস্ট শেষ হলে। তাহলে ২০০২  এর পর এই প্রথম একদিনের সিরিজে এত ওভার বল করা হবে। তার ওপর সিরিজে ব্যাটারদের বোলবোলা- প্রথম ৪ টেস্টে ১৭টি সেঞ্চুরি  জুটি এবং ১৮ টি সেঞ্চুরি  হয়ে গেছে! সত্যিই বোলারদের যা ধকল গেছে আর বলার নয়। মোট ওভারের প্রায় ৭০ শতাংশ বল করেছে পেস বোলাররাই। কিন্তু এই প্রসঙ্গে কয়েকজন সিংহ হৃদয় জোরে বোলার দের কথা না বললে অন্যায় হবে। এখনো অব্দি ওকস দু দলের সর্বোচ্চ ১৭৩ ওভার করেছে। তারপরেই কার্স ১৫৫এবং স্টোকস ১৪০ এবং সিরাজ ১৩৯ ওভার (Squad Rotation)।

এদের মধ্যে কার্স-স্টোকস এই  টেস্টে বিশ্রামে। কিন্তু এরা সবাই অক্লান্তভাবে দলের জন্যে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে। এখানেই ভাবার যে যদি আরেকটু বোলিং সহায়ক পিচ রাখা যেতো তাহলে এদের পরিশ্রমের ফলে হয়তো ব্যাট-বলের মধ্যে আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যেতো এবং আরো আকর্ষণীয় হতো তেন্ডুলকর-অ্যান্ডারসন সিরিজটি। যাই হোক প্রেসএ যাওয়ার সময়ে ভারত মোটামুটি জায়গায় পৌঁছতে পেরেছে ২ উইকেটে ৭২ করে-তারপর বৃষ্টির জন্যে খেলা বন্ধ। দেখা যাক প্রথম ঝাপটা সামলে গিল বাহিনী কতদূর নিয়ে যেতে পারে ভারতের রানের তরীকে।

Related Articles