আইএসএলের আগেই এক বছরের চুক্তিতে লাল-হলুদে মোহনবাগানের প্রাক্তন ফুটবলার
রবিবার ফার্নান্ডেজের সঙ্গে চুক্তির কথা সরকারি ভাবে জানিয়েছে ইস্টবেঙ্গল কর্তৃপক্ষ।
Truth of Bengal: ভারতীয় ফুটবলে দলবদলের বাজারে বড় চমক দিল ইস্টবেঙ্গল। জাতীয় দলের হয়ে খেলা অভিজ্ঞ আক্রমণাত্মক মাঝমাঠের ফুটবলার রেনিয়ের রেমন্ড ফার্নান্ডেজকে এক বছরের চুক্তিতে দলে নিল লাল-হলুদ শিবির। সদ্য শেষ হওয়া ডুরান্ড কাপে জামশেদপুর এফসির হয়ে হ্যাটট্রিক করা ৩০ বছরের এই ফুটবলারের যোগদানে ইস্টবেঙ্গলের মাঝমাঠ এবং আক্রমণভাগ আরও শক্তিশালী হল।
রবিবার ফার্নান্ডেজের সঙ্গে চুক্তির কথা সরকারি ভাবে জানিয়েছে ইস্টবেঙ্গল কর্তৃপক্ষ। ডুরান্ড কাপ চলাকালীনই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছিলেন লাল-হলুদ কর্তারা। মূলত আক্রমণাত্মক মাঝমাঠের ফুটবলার হলেও গোল করার দক্ষতাও রয়েছে ফার্নান্ডেজের। ফলে আগামী মরসুমে ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণভাগে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারেন তিনি।
গত মরসুমে দুর্দান্ত লড়াইয়ের পর ভারতীয় ফুটবলের শীর্ষ প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেয়েছে ইস্টবেঙ্গল। নতুন মরসুমের শুরুতেও ডুরান্ড কাপ জিতেছে তারা। কলকাতা লিগেও ভাল ছন্দে রয়েছে দল। তবে সামনে একাধিক প্রতিযোগিতা। শীর্ষ স্তরের লিগের পাশাপাশি এশীয় প্রতিযোগিতা, আইএফএ শিল্ড এবং সুপার কাপের মতো টুর্নামেন্ট খেলতে হবে লাল-হলুদকে। ফলে দলে পর্যাপ্ত বিকল্প এবং মাঝমাঠে গভীরতা বাড়ানো প্রয়োজন ছিল। সেই জায়গাতেই ফার্নান্ডেজকে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন বলে মনে করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় ফুটবলের শীর্ষ লিগে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে ফার্নান্ডেজের। মুম্বই সিটি এফসি, ওড়িশা এফসি, এফসি গোয়া এবং জামশেদপুর এফসির হয়ে খেলেছেন তিনি। শীর্ষ লিগের লিগ শিল্ড, কাপ এবং সুপার কাপ জয়ের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। এখনও পর্যন্ত শীর্ষ লিগে ১২৫টি ম্যাচ খেলেছেন এই মিডফিল্ডার। ভারতের জাতীয় দলের হয়েও কয়েকটি ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি।
ফার্নান্ডেজের সঙ্গে কলকাতার ফুটবলের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। এক দশক আগে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানের জার্সিতেও খেলেছেন তিনি। সবুজ-মেরুন শিবিরে প্রায় দু’বছর কাটিয়ে আই লিগে ১৯টি ম্যাচ খেলেছিলেন। ফলে কলকাতার ময়দান এবং এখানকার ফুটবল পরিবেশ তাঁর অচেনা নয়।
এ বার সেই পরিচিত ময়দানেই ফিরছেন, তবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে। কোচের পরিকল্পনায় এডমুন্ড, বিষ্ণু, বিপিন, মহেশদের সঙ্গে ফার্নান্ডেজের বোঝাপড়া কতটা জমে ওঠে, এখন সেটাই দেখার। এক দিকে মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ, অন্য দিকে গোল করার ক্ষমতা—দুই মিলিয়ে নতুন মরসুমে লাল-হলুদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠতে পারেন এই অভিজ্ঞ ফুটবলার।






