খেলা

বিশ্বকাপ শেষ হলেও থামছে না জল্পনা! সম্প্রচার স্বত্ব পেতে ফিফাকে কোটি কোটি ডলার ঘুষের স্বীকারোক্তি

বিভিন্ন ফুটবল প্রতিযোগিতার সম্প্রচার স্বত্ব পেতে ফিফার আধিকারিকদের মোটা অঙ্কের ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন আর্জেন্টিনার দুই স্পোর্টস মার্কেটিং কর্তা

Truth of Bengal: বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পাঁচ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ফিফাকে ঘিরে দুর্নীতির বিতর্ক থামার নাম নেই। একের পর এক অভিযোগে প্রশ্নের মুখে পড়ছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ামক সংস্থার ভাবমূর্তি। এর মধ্যেই নতুন করে বিস্ফোরক দাবি সামনে এল। বিভিন্ন ফুটবল প্রতিযোগিতার সম্প্রচার স্বত্ব পেতে ফিফার আধিকারিকদের মোটা অঙ্কের ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন আর্জেন্টিনার দুই স্পোর্টস মার্কেটিং কর্তা। অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি হলেন হুগো জিনকিস এবং তাঁর ছেলে মারিয়ানো জিনকিস। তাঁরা আর্জেন্টিনার স্পোর্টস মার্কেটিং সংস্থা ‘ফুল প্লে’-র সঙ্গে যুক্ত। মার্কিন তদন্তকারী সংস্থার কাছে তাঁরা জানিয়েছেন, ফিফার একাধিক ম্যাচ ও প্রতিযোগিতার আকর্ষণীয় সম্প্রচার স্বত্ব পাওয়ার জন্য তাঁরা লক্ষ লক্ষ মার্কিন ডলার ঘুষ দিয়েছিলেন।

এই স্বীকারোক্তি সামনে আসতেই ফের ২০১৫ সালের সেই বহুল আলোচিত ফিফা দুর্নীতি-কাণ্ডের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। সে সময় ফিফা, কনকাকাফ এবং কনমেবলের একাধিক আধিকারিকের বিরুদ্ধে ঘুষের বিনিময়ে বিভিন্ন ফুটবল প্রতিযোগিতার সম্প্রচার ও বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল। তদন্তে নেমে মার্কিন বিচার বিভাগের অনুরোধে ২০১৫ সালের ২৭ মে জুরিখের একটি পাঁচতারা হোটেল থেকে ফিফার সাত জন শীর্ষ আধিকারিককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ওই দুর্নীতি-কাণ্ডের জেরে তীব্র চাপের মুখে পড়েছিলেন তৎকালীন ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটার। পরের বছরই সভাপতির পদ ছাড়তে হয় তাঁকে। যদিও এত বছর পরেও সেই দুর্নীতির তদন্ত পুরোপুরি থামেনি।

তদন্তের সূত্র ধরেই এবার হুগো ও মারিয়ানো জিনকিসের স্বীকারোক্তির বিষয়টি সামনে এসেছে। তাঁদের দাবি, সেই সময় ফিফা বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্ব এবং কোপা আমেরিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতার সম্প্রচার স্বত্ব নিজেদের হাতে পেতে তাঁরা বিপুল অর্থ ঘুষ হিসেবে দিয়েছিলেন। তাঁদের বক্তব্যের ভিত্তিতে ফিফার তৎকালীন আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আর্জেন্টিনার এই দুই কর্তার স্বীকারোক্তি এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এল, যখন ফিফা ইতিমধ্যেই নানা বিতর্কে জর্জরিত। বিশ্বকাপ আয়োজন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং সংস্থার শীর্ষস্তরের কার্যকলাপ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকেও একাধিক অনিয়মের অভিযোগের মুখে পড়তে হয়েছে।

ফলে পুরনো দুর্নীতির তদন্তে নতুন তথ্য প্রকাশ্যে আসায় আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ামক সংস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠছে। সম্প্রচার স্বত্বের মতো বিপুল অর্থের ব্যবসায় ঘুষের অভিযোগ সত্যি হলে ফিফার ভাবমূর্তিতে তার প্রভাব আরও গভীর হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।