রাজ্যের খবর

কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে বাজারে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি  অগ্নিমূল্য চিনি, কালোবাজারি রুখতে গোডাউনে টাস্ক ফোর্স

এদিনের অভিযানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসন ও খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকরা।

উজ্জ্বল দাশগুপ্ত, আসানসোল:  চিনির দামে লাগামছাড়া বৃদ্ধি ঘিরে যখন নাজেহাল সাধারণ মানুষ, তখন কালোবাজারি ও কৃত্রিম সংকট রুখতে টাস্ক ফোর্স নিয়ে অভিযানে নামল পুলিশ-প্রশাসন। শনিবার সকাল থেকেই শিল্পশহর রানিগঞ্জের একাধিক চিনি ও খাদ্যসামগ্রীর গোডাউন এবং দোকানে যৌথভাবে অভিযান চালানো হয়। পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল, রানিগঞ্জ-সহ গোটা শিল্পাঞ্চলে কয়েকদিন আগেও প্রতি কেজি চিনি ৪৫-৫০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৬৫-৭০ টাকা হয়েছে বলে অভিযোগ। শুধু চিনিই নয়, পেঁয়াজ, ভোজ্যতেল, ডাল-সহ একাধিক নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বৃদ্ধিতে সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কেউ যাতে অতিরিক্ত মুনাফা করতে না পারে, সেদিকে নজরদারি বাড়িয়েছে প্রশাসন।

এদিনের অভিযানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসন ও খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকরা। এছাড়াও ছিলেন আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি (সেন্ট্রাল) ধ্রুব সাহা এবং রানিগঞ্জ থানার আধিকারিকরা।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকারের নির্দেশে রাজ্যজুড়ে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর ও মজুতের উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল ও দুর্গাপুর – দুই মহকুমাতেই নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি চলছে। এদিন রানিগঞ্জের বিভিন্ন গোডাউনে গিয়ে আধিকারিকরা খতিয়ে দেখেন, কোথাও বেআইনি ভাবে অতিরিক্ত পণ্য মজুত করে রাখা হয়েছে কি না। পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা কত দামে পণ্য কিনছেন এবং কত দামে বিক্রি করছেন, সেই হিসাবও পরীক্ষা করা হয়। প্রশাসনের দাবি, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। সেই প্রবণতা রুখতেই এই অভিযান।

তবে শনিবারের অভিযানে রানিগঞ্জে দু-একটি দোকান ছাড়া বড় ধরনের কোনও অসঙ্গতি ধরা পড়েনি বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।অভিযান শেষে ডিসিপি (সেন্ট্রাল) ধ্রুব সাহা বলেন, ‘কোনও অসাধু ব্যবসায়ীর জন্য যাতে সাধারণ মানুষ সমস্যায় না পড়েন, তা নিশ্চিত করতেই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী টাস্ক ফোর্সের সদস্যদের নিয়ে এই অভিযান চালানো হয়েছে। আগামী দিনেও এই অভিযান জারি থাকবে।’ চিনির পাশাপাশি অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদরের উপরও প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানা গিয়েছে।

Related Articles