বিপর্যয়ের রেশ কাটেনি, ফের বন্যার আতঙ্ক নেপালে! ভোটে কোশীতে হাই অ্যালার্ট
রবিবার নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি বা NDRRMA ভোটে কোশী নদী ঘিরে হাই অ্যালার্ট জারি করেছে।
Truth of Bengal: একটি ভয়াবহ বিপর্যয়ের ধাক্কা এখনও সামলে উঠতে পারেনি নেপাল। তার মধ্যেই নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে দেশজুড়ে। সাম্প্রতিক হিমবাহ ধস ও পাহাড়ি বিপর্যয়ে ব্যাপক প্রাণহানি এবং ক্ষয়ক্ষতির পর এখনও উদ্ধারকাজ চলছে। এরই মধ্যে নেপালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পার্বত্য নদী ভোটে কোশীর জলস্তর ও স্রোত অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নতুন সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।
রবিবার নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি বা NDRRMA ভোটে কোশী নদী ঘিরে হাই অ্যালার্ট জারি করেছে। নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ জারি করা বিবৃতিতে NDRRMA জানিয়েছে, রসুয়া জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ভোটে কোশী নদীতে জলের গতি এবং গর্জনের শব্দ দ্রুত বেড়েছে। ফলে নদীর নিম্ন অববাহিকায় আকস্মিক প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রসুয়া, নুওয়াকোট এবং ধাদিং জেলার নিচু এলাকার বাসিন্দাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, নদীর স্রোত আরও বাড়লে অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। বিপদসঙ্কুল নদীতীরবর্তী এলাকাগুলিতে সাধারণ মানুষের প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, উদ্ধারকারী দলগুলিকেও চরম সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। রসুয়া, নুওয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান এবং আশপাশের এলাকায় উদ্ধারকাজে যুক্ত ভারতীয় ও নেপালি দল এবং স্বেচ্ছাসেবকদের নদী থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা।
এর মধ্যেই আগের বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, তিব্বত-নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায় হিমবাহ এবং বিশাল শিলাখণ্ড ধসের ঘটনায় মোট মৃতের সংখ্যা ৬৯১-এ পৌঁছেছে। এর মধ্যে নেপালে ৬৭৫ জন এবং তিব্বত সীমান্তে ১৬ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছে।
বিপর্যয়ের চতুর্থ দিন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৬৩ জন বিদেশি পর্যটক ও নাগরিক রয়েছেন। এখনও বহু এলাকায় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চলছে।
নেপালের পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণ ও উদ্ধার সহায়তা পাঠিয়েছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের বক্তব্য অনুযায়ী, ১১ টন জরুরি ত্রাণ ও উদ্ধার সামগ্রী নিয়ে ভারতের চতুর্থ C-130J Hercules বিমান কাঠমাণ্ডুতে পৌঁছেছে। উদ্ধার সরঞ্জামগুলি নেপাল প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
ভারতের পাঠানো সহায়তার মধ্যে রয়েছে সুড়ঙ্গে আটকে পড়াদের উদ্ধারের জন্য সেনার বিশেষ টানেল টেকনিক্যাল টিম ও আধুনিক যন্ত্রপাতি। মৃতদেহ শনাক্তকরণে DNA পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দলও পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি কম্বল, স্লিপিং ব্যাগ, তারপোলিন, প্লাস্টিক শিট এবং হাইজিন কিট-সহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে ভারত।
হিমবাহ ধসের জলপ্রলয়ে বিধ্বস্ত নেপালে তাই নতুন করে ভোটে কোশীর স্রোত বৃদ্ধি আতঙ্ক আরও বাড়িয়েছে। আগের বিপর্যয়ের ক্ষত শুকোনোর আগেই ফের বড় ধরনের প্লাবনের আশঙ্কায় সীমান্তবর্তী ও নদীতীরবর্তী এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে।






