দেশ

‘ঈশ্বর রক্ষা করেছেন’, হড়পা বান থেকে বেঁচে মুম্বই ফিরে বললেন ৪১ জন কৈলাসযাত্রী

মহারাষ্ট্র প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিপর্যয়ের আগে রাজ্য থেকে যাওয়া পর্যটকেরা কৈলাস-মানস সরোবর দর্শন সেরে ফেরার পথে ছিলেন।

Truth of Bengal: নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ হড়পা বানের কবলে পড়েও শেষ পর্যন্ত নিরাপদে মুম্বই ফিরলেন মহারাষ্ট্রের ৪১ জন পর্যটক। কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনে গিয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিলেন তাঁরা। বুধবারের ঘটনার পর থেকে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছিল চরমে। শনিবার মুম্বই বিমানবন্দরে পর্যটকেরা ফিরতেই স্বস্তি ফেরে পরিবারগুলিতে। দেশে ফিরে তাঁদের কয়েক জন শোনালেন সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা। গত বুধবার সকালে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আচমকা হড়পা বান নেমে আসে। প্রবল জলের স্রোতে গ্রামের পর গ্রাম ভেসে যায়। ধ্বংস হয়ে যায় নেপাল-তিব্বত সীমান্তের গিরংয়ের অভিবাসন দফতরও। কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার আগে এই পথেই প্রয়োজনীয় নথি দেখিয়ে ছাড়পত্র নিতে হয় পর্যটকদের।

মহারাষ্ট্র প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিপর্যয়ের আগে রাজ্য থেকে যাওয়া পর্যটকেরা কৈলাস-মানস সরোবর দর্শন সেরে ফেরার পথে ছিলেন। সেই সময়ই বিপর্যয়ের মুখে পড়েন তাঁরা। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় অনেকেই বিভিন্ন জায়গায় আটকে পড়েন। বোরিভালির বাসিন্দা সুবোধ শাঠের স্ত্রী শ্যামাও ওই পর্যটক দলের সঙ্গে নেপাল গিয়েছিলেন। স্ত্রী নিরাপদে ফিরে আসায় স্বস্তি প্রকাশ করে সুবোধ বলেন, গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে তিনি অত্যন্ত উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন। স্ত্রীকে চোখের সামনে দেখতে পেয়ে এখন অনেকটাই নিশ্চিন্ত হয়েছেন তিনি।

বিপর্যয়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন পর্যটক স্মিতা পওয়ারও। তাঁর কথায়, তাঁরা নেপাল-তিব্বত সীমান্তের দিকে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু দলের কয়েক জন সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়। সেই কারণে কিছুটা সময় তাঁদের অপেক্ষা করতে হয়েছিল। পরে যে সময় গিরং সীমান্তে পৌঁছনোর কথা ছিল, ঠিক সেই সময়েই হড়পা বান আছড়ে পড়ে। স্মিতার কথায়, “ঈশ্বরই আমাদের এ যাত্রায় বাঁচিয়ে দিয়েছেন।” বিপর্যয়ের জেরে তাঁরা তিব্বতের সাগায় আটকে পড়েছিলেন বলেও জানান তিনি। শেষ পর্যন্ত নিরাপদে দেশে ফিরতে পেরে স্বস্তিতে পর্যটকেরা।মহারাষ্ট্র প্রশাসন জানিয়েছে, ওই রাজ্য থেকে মোট ৪০৪ জন পর্যটক নেপালে গিয়েছিলেন। প্রশাসনের দাবি, তাঁরা সকলেই নিরাপদে রয়েছেন। এখনও পর্যন্ত ৩৩৮ জন পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। ধাপে ধাপে বাকিদেরও দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

Related Articles